শুক্রবার, ১৮ Jun ২০২১, ১২:১০ পূর্বাহ্ন

প্রতিনিধি আবশ্যক :
বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা জয় বাংলা নিউজ ডট কম ( www.joibanglanews.com)এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা/থানা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীদের পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অভিজ্ঞতা ( যদি থাকে) উল্লেখ পূর্বক জীবন বৃত্তান্ত এবং মোবাইল নাম্বার সহ ইমেইলে ( joibanglanews@gmail.com ) আবেদন করতে হবে।
‘যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‘যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

‘যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞাপন

জয় ডেক্স : নারী ও কন্যাশিশুদের ওপর যৌন হয়রানি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, তাই সর্বস্তরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর নেতৃবৃন্দ। তারা আজ সকাল ১১.০০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নারী ও কন্যাশিশুদের উপর যৌন হয়রানির ভয়াবহ পরিস্থিতি বিষয়ে পরিচালিত জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপস্থাপন এবং ‘নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে উক্ত মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর সভাপতি ড. বদিউল আলম মজুমদার, ফোরাম সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি, অপরাজেয় বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক ওয়াহিদা বানু, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্র-এর সভাপতি নাছিমুন আরা হক মিনু, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল-বাংলাদেশ-এর প্রটেকশান প্রজেক্ট প্রজেক্ট ম্যানেজার ফারজানা মেহরীন, ফ্রি-ল্যান্স গবেষক মোহাম্মদ আজাদ প্রমুখ।

ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘আমাদের দেশের নারী ও কন্যাশিশুরা পুষ্টির অভাবের পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ব না ও নির্যাতনের শিকার। বর্তমানে শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে যৌন হয়রানি রোধে কমিটি গঠনের জন্য হাইকোর্টের একটি নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু অন্যান্য স্থানে যৌন হয়রানি করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনায় কিছু নেই। তাই সর্বক্ষেত্রে যৌন হয়রানি রোধে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন হওয়া দরকার। হাইকোর্টের নির্দেশনাতেও একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। আমরা মনে করি, নারী ও কন্যাশিশুরা সুরক্ষিত না থাকলে পুরুষরাও সুরক্ষিত থাকতে পারে না, জাতি সুরক্ষিত থাকে না।’

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নাছিমা আক্তার জলি। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে নারী ও শিশুদের প্রতি ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন বেড়েই চলেছে। যার ধরন ও মাত্রা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। শুধু কন্যাশিশুরাই নয়, ছেলে শিশু ও প্রতিবন্ধী নারীসহ সকল বয়সী নারীর প্রতিও ঘটছে ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা এবং নানাবিধ যৌন হয়রানি। আমাদের কন্যাশিশু ও নারীরা পথে-ঘাটে, যানবাহনে, বাজারে পাবলিক প্লেসে, এমনকি শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ বাসা বাড়িতে হরহামেশা যৌন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। আমরা মনে করি, এটি কোনো সুস্থ সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য কাম্য নয়।

তিনি বলেন, ‘নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি সমন্বিত আইন প্রণয়ন করা এখন সময়ের দাবি। ২০০৯ সালে হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশনামূলক নীতিমালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলে যৌন হয়রানী প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কিন্তু যৌন হয়রানি কেবলমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মস্থলেই ঘটছে না। এর পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। পথে-ঘাটে, যানবাহনে, খেলার মাঠে তথা সকল জনপরিসরে, এমনকি গৃহের অভ্যন্তরেও যৌন হয়রানীর ঘটনা ঘটছে। তাই ২০০৯ সালের হাইকোর্টের নির্দেশনা যথেষ্ট নয়।’

পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করে গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স এর সহায়তায় জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম ও ‘পার্লামেন্টেরিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস’ যৌথভাবে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করে। গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় একটি সমন্বিত খসড়া আইন ‘পার্লামেন্টেরিয়ান ককাস অন চাইল্ড রাইটস’-এর মাধ্যমে মাননীয় ডেপুটি স্পিকার জনাব মোঃ ফজলে রাব্বী মিয়া, এমপি’র নিকট হস্তান্তর করা হয়।

তিনি বলেন, যৌন হয়রানি, নারী ও কন্যাশিশুদের বিকাশের পথে একটি বড় অন্তরায়। বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুদের প্রতি যৌন হয়রানি, বিশেষ করে পাবলিক প্লেসে যৌন হয়রানির নির্ভরযোগ্য কোনো পরিসংখ্যান খুঁজে পাওয়া বেশ কষ্টসাধ্য। এই সীমাবদ্ধতা অনুধাবন করে পাবলিক প্লেসে যৌন হয়রানির অবস্থা বোঝার জন্য জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও গার্লস অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্সের সহায়তায় নমুনা হিসেবে ২৭টি প্রশ্ন সমম্বলিত একটি প্রশ্নপত্র তৈরি করে। পরবর্তীতে ১০ জনের একটি তরুণ দলের মাধ্যমে বরিশাল জেলার সদর, বাবুগঞ্জ এবং আগৈলঝড়া উপজেলা ও উক্ত উপজেলার দুটি ইউনিয়ন রাজিহার ও কেদারপুর এবং রংপুর জেলার সদর, গঙ্গাচড়া ও পীরগঞ্জ উপজেলায় এবং দুইটি ইউনিয়ন গজঘন্টা ও কাবিলপুর-এ একটি জরিপ কার্য পরিচালনা করা হয়। জরিপ কার্যটি ৩৯২ জনের সাথে পরিচালনা করা হয়। উত্তরদাতাদের বয়স ছিল সর্বনিম্ন ১২ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩৫ বছর। জরিপের লক্ষ্য ছিল, পাবলিক প্লেসে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকারের জন্য একটি সমন্বিত আইনের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব অনুধাবন করা। ৪২ শতাংশ উত্তরদাতার বয়স ১৮ বছরের নিচে, ৫৮ শতাংশেরর বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। এই গবেষণা থেকে যে বিষয়গুলো পাওয়া গেছে তা হলো: পাবলিক প্লেসে ৯৭.৯৬% নারী ও কন্যাশিশু এক থেকে একাধিকবার যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। মোট ৩৯২ জন উত্তরদাতার  মধ্যে ৩৮৪ জনই বলেছেন, তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন সময়ে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন, যা আমাদের জন্য একটি ভয়াবহ ইঙ্গিত। উত্তরদাতা নারীর শতকরা ৫৯.৪৫ ভাগ বলেছেন যে, তারা তাদের ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সের মধ্যেই জীবনে প্রথমবারের মত যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। তবে লক্ষণীয় এবং উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, এদের মধ্যে শতকরা ৫.৪৭ ভাগ নারী ৬ বছর বয়সের পূর্বেই এবং ১৫.২৬ ভাগ নারী ১০ বছরের পূর্বেই জীবনে প্রথম যৌন হয়রানির শিকার হয়েছিলেন। উত্তরদাতা ৫.৮৮ শতাংশ নারী নিকটাত্মীয় দ্বারা, ২৬.১৭ শতাংশ পরিচিত ব্যক্তি দ্বারা এবং ৬৭.৯৫ শতাংশ নারী অপরিচিত ব্যক্তি দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।’

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম-এর পক্ষ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। যথা:

উত্ত্যক্তকরণ, যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে ‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০০৯’ নামে একটি আইন জরুরিভিত্তিতে প্রণয়ন করা;

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে পৃথক আইন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত মহামান্য হাইকোর্টের রায়কে যথাযথভাবে অনুসরণ করা এবং এর ব্যাত্যয় ঘটলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা;

শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও হত্যার সকল ঘটনাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে দ্রততম সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করা;
ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারী-পুরুষ, সরকার, প্রশাসন, নাগরিক সমাজ, পরিবার সকলের ঐক্যবদ্ধ হওয়া;
নারী নির্যাতনকারীদের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করা;

শিশু আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৮) অনুযায়ী শিশু আদালতকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের সাথে যুক্ত না রেখে পৃথক আদালত হিসেবে রাখা;

জরুরিভিত্তিতে ‘শিশু আইন ২০১৩’ এর বিধিমালা প্রণয়ন করা;

শিশু সুরক্ষায় শিশুদের জন্য একটি পৃথক অধিদপ্তর গঠন করা;

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা;

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণ ও যুবসমাজকে সচেতন করা;

যৌন সহিংসতা বন্ধে সরকারি-বেসরকারি, পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন বন্ধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন-নির্দেশনা সর্বস্তরে মানুষের মধ্যে জানানোর ব্যবস্থা করা; এবং

বাংলাদেশ সরকার সুবিচার নিশ্চিত করতে অনেক প্রতিষ্ঠান তৈরি করে সেগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করার ক্ষমতা বা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু চাহিদার তুলনায় তা যথেষ্ট নয়। এসকল প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর করা, নারী নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের উপস্থিতির পাশাপাশি এর কঠোর প্রয়োগও নিশ্চিত করা।

 

 

 

 

 

 

 

সুত্র: সকালের সময়

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »