বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

প্রতিনিধি আবশ্যক :
বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা জয় বাংলা নিউজ ডট কম ( www.joibanglanews.com)এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা/থানা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীদের পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অভিজ্ঞতা ( যদি থাকে) উল্লেখ পূর্বক জীবন বৃত্তান্ত এবং মোবাইল নাম্বার সহ ইমেইলে ( joibanglanews@gmail.com ) আবেদন করতে হবে।
পরিবহন ধর্মঘটে অচল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, মানুষের সীমাহিন দূর্ভোগ

পরিবহন ধর্মঘটে অচল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ, মানুষের সীমাহিন দূর্ভোগ

বিজ্ঞাপন

 

স্টাফ রিপোর্টার: পরিবহন ধর্মঘটের কারণে সীমাহিন দূর্ভোগে পড়েছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ। অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের কারণে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ। রোববার সকাল থেকে খুলনা বিভাগের কোনো রুটে যানবাহন চলাচল করেনি। ফলে থমকে গেছে জনজীবন। সকাল থেকে বিভিন্ন টারমিনাল ও স্টপেজগুলোতে বাস-ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে। আন্দোলনের পরবর্তি করণীয় বিষয়ে শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দের সাথে গতকাল পরিবহণ মালিকরা দফায় দফায় বৈঠক করেন। অন্যদিকে যশোরের জেলা প্রশাসন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতাদের সাথে সমঝোতার চেষ্টা করছেন। ফলে দীর্ঘ অনিশ্চিয়তায় পড়েছে এ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ।

বাংলাদেশ পরিবহন সংস্থা শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোর্ত্তজা হোসেন জানান, যশোর জেলা প্রশাসন আমাদেরকে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় সার্কিট হাউসে বসতে বলেছেন। আমরা হয়তো ওই বৈঠকে যেতে পারি। তবে এ বিষয়ে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারবো না। কারণ এ আন্দোলন এখন যশোরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, শুধু যশোরের ১৮ টি রুটে নয়, দ্বিতীয় দিনে সোমবার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দশ জেলায় পরিবহন শ্রমিকরা ‘স্বেচ্ছায়’ বাস চালাচ্ছেন না। জেলাগুলো হলো, যশোর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, মাগুরা, নড়াইল, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।

শ্রমিক মোর্ত্তজা বলেন, অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনার জন্য নতুন সড়ক আইনে আমাদেরকে ‘ঘাতক’ বলা হচ্ছে। তাদের জন্য এমন আইন করা হয়েছে যা সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। নতুন আইনের অনেক ধারার ব্যাপারে শ্রমিকদের আপত্তি রয়েছে। সরকার সমাধানের কোনো উদ্যোগ না নিয়ে এটি কার্যকর করায় রোববার দুপুর থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

সড়ক সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, গত বছর ঢাকায় বাসচাপায় দুই ছাত্র-ছাত্রীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের নজিরবিহীন আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালে আগের আইন কঠোর করে এই আইন করা হয়। এতে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রয়েছে।

২০১৮ সালে পাশ হওয়া এ আইন গত পহেলা নভেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জারি করা হয়। তবে আইনটি প্রণয়নের পর থেকেই এর প্রবল বিরোধিতা করে আসছে পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনগুলো। অন্য দিকে আইনটি সম্পর্কে সবার স্বচ্ছ ধারণা না থাকার কারণ দেখিয়ে আরো দুই সপ্তাহ পর তা গত রোববার কার্যকর করে সরকার। এরপর থেকে বিভিন্ন জেলায় শ্রমিকরা ‘স্বেচ্ছায়’ এই কর্মবিরতি শুরু করে।

অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা শ্রমিক ধর্মঘটে ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। যশোর-খুলনাসহ বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সকাল থেকে যশোর কেন্দ্রীয় বাসটারমিনালসহ বিভিন্ন স্টপেজে বহু যাত্রীকে ভিড় করতে দেখা যায়। কিন্তু কোনো যানবাহন ছেড়ে না যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েন।

টারমিনালে আসা ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা বলেছেন, শ্রমিকদের এভাবে ধর্মঘট ডাকার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। তাই অবিলম্বে এই ধর্মঘট প্রত্যাহার করার দাবি জানান তারা।

সোমবার সকাল ৮ টার দিকে শহরের শংরপুর কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় দেখা যায় অসংখ্য যাত্রি ভিড় জমিয়ে আছেন। কোন পরিবহন না থাকায় তারা তাদের গন্তব্যে যেতে পারছেন না। তারিকুল আলম নামে একজন যাত্রী জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাবেন কিন্তু কোন পরিবহণ না থাকায় ঘন্টার পর ঘন্টা দাড়িয়ে আছেন। বাধ্য হয়ে তিনি একটি ইজিবাইকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও শ্রমিকরা বাধা দেয়। একই কথা জানান, মাসুদ পারভেজ নামে একজন সরকারি চাকুরিজীবি। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে বাসে করে বেনাপোলে তার কর্মস্থলে যান। অথচ আজ কোন গাড়ী না থাকায় সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বলেন, এ ধরনের আন্দোলন মোটেও কাম্য নয়।

অন্যদিকে শ্রমিক নেতারা বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে বিরোধীদলের কয়েকটি আন্দোলনের সময়ে সরকারের চাপের কারণে হরতাল-অবরোধের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে তারা বাস চালিয়েছেন। যেকারণে বিরোধীদলের আন্দোলন কার্যত ব্যর্থ হয়। অথচ সরকার আজ আমাদের বিরুদ্ধে অন্যায় আইন চাপিয়ে দিচ্ছে। ফলে সড়ক আইন সংশোথন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।

জেলা পরিবহণ সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনর রশিদ ফুলু বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসনের সাথে সমঝোতার জন্য আমাদেরকে আহবান করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় যশোর সার্কিট হাউসে বসার কথা রয়েছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেয়া হবে সে বিষয়ে আমরা বসে সিদ্ধান্ত নেবো। তবে সরকার আমাদের দাবি না মানলে আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে রবিবার যশোর শহর সংলগ্ন বিভিন্ন মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ন স্থানে পরিবহন শ্রমিকরা দলে দলে জড়ো হন। তারা রাস্তা অবরোধ করে মিছিল করতে থাকে। শহরতলীর চাঁচড়া মোড়ে ও কেন্দ্রীয় টার্মিনালে অবস্থান নিয়ে শ্রমিকরা দিনভার বিক্ষোভ করেন। এসময় তারা ওইসব সড়ক দিয়ে যানবাহণ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন।

শহরতলীর চাঁচড়া এলাকায় কয়েকটি প্রাইভেট চালক নিগৃত হন পরিবহণ শ্রমিকদের দ্বারা। এছাড়া শহরের মনিহার চত্বর, মুড়লী মোড়, রাজারহাট মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকায় পরিবহণ শ্রমিকরা দিনভর অবস্থান নিয়ে যানবাহন চলাচলে বাধা দেয়। এসব সড়ক দিয়ে নসিমন, করিমন, ইজিবাইক চলতে দেখা গেলেও কোনো দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »