মঙ্গলবার, ২৮ Jun ২০২২, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

প্রতিনিধি আবশ্যক :
বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা জয় বাংলা নিউজ ডট কম ( www.joibanglanews.com)এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা/থানা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীদের পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অভিজ্ঞতা ( যদি থাকে) উল্লেখ পূর্বক জীবন বৃত্তান্ত এবং মোবাইল নাম্বার সহ ইমেইলে ( joibanglanews@gmail.com ) আবেদন করতে হবে।
সাড়ে ১৪ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধারে বিজিবির মামলা চৌগাছায় আটক সোনা পাচার চক্রের মূল হোতা শার্শার সোহেল সিন্ডিকেট

সাড়ে ১৪ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধারে বিজিবির মামলা চৌগাছায় আটক সোনা পাচার চক্রের মূল হোতা শার্শার সোহেল সিন্ডিকেট

শহিদ জয়:

যশোর চৌগাছার শাহজাদপুর সীমান্তের অবৈধ পকেটঘাট দিয়ে পাচারের প্রাক্কালে ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহেদ মিনহাজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা ১৪ কেজি ৪৫০ গ্রাম ওজনের ১২৪ টি স্বর্ণের বারসহ একজনকে আটক করেছে। অদূরে কাবিলপুর শ্মশান ঘাট এলাকা থেকে গত শুক্রবার ১০ কোটি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের এ সোনার চালানসহ চৌগাছা উপজেলার কাবিলপুর গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে শাহ আলমকে আটক করেছে। গত শনিবার  এ বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে চৌগাছা থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আটক শাহ আলম বিজিবিকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে সীমান্তের বিশ^স্ত সূত্রগুলো জানায়, এই সোনাপাচারের সাথে শক্তিশালী একটি চক্র জড়িত। এই সিন্ডিকেটের প্রধান হচ্ছে সোহেল নামে একজন, সে সাবেক এক জনপ্রতিনিধির ভাই। সোহেলের বাড়ি শার্শা উপজেলায় বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। তাছাড়া তার সাথে একই এলাকার বিএনপি ঘরোনার দু’টি মাছ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং ফেন্সি-অস্ত্র এবং সোনা পাচারকারী বাদশাসহ চিহ্নিত একটি চক্র জড়িত রয়েছে বলে জানা গেছে। শাহ আলমকে রিম্যান্ডে নিয়ে ‘প্রকৃত অর্থে’ জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে বলে সীমান্তবাসীর অভিমত। এপারে ঢাকার সুমন কুমার দে থেকে সোহেল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ওপারে বস্ গৌতম, অপু, ডাকুু এবং রবিউল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পৌছায় কলকাতা বড়বাজারের অমিত সাহার পৌছে যায় ডেরায়।

সোনা পাচারের নিরাপদ রুট খ্যাত যশোরের চৌগাছা সীমান্ত থেকে গত শুক্রবার ১০ কোটি ১১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ১৪ কেজি ৪৫০ গ্রাম ওজনের ১২৪ টি স্বর্ণের বারসহ একজনকে আটক করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)। গত শনিবার এ ব্যাপারে ৪৯ বিজিবির পক্ষ থেকে শাহজাদপুর বিজিবি ক্যাম্পের নায়েক সুবেদার আবু রায়হান বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলা নং-১০, তারিখ ২১/০৫/২০২২ইং। মামলার আইও’র দায়িত্ব নিয়েছেন চৌগাছা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ইয়াসিন আলম চৌধুরী। শনিবার সকালেই রিমান্ডের আবেদনসহ তাকে আদালতে সোপর্দ্য করা হয়েছে। তবে কতদিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে সেটা ওসি সাইফুল আসলাম জানাতে পারেননি। বিপুল পরিমাণ এই সোনার চালান আটকের কৃতিত্বের দাবিদার যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক, লেঃ কর্নেল শাহেদ মিনহাজ ছিদ্দিকী।

সীমান্তের সূত্রগুলো বলছে, এই সোনা সিন্ডিকেটের প্রধান হোতা হচ্ছে সোহেল। সে শার্শার সাবেক একজন জনপ্রতিনিধির ভাই এবং শীর্ষ এক জনপ্রতিনিধির আর্শিবাদপুষ্ঠ। তার সাথে রয়েছে বাগআঁচড়া ও বেনাপোলের দুটি মৎস্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের মালিক। এছাড়াও জড়িত রয়েছে ফেন্সি-অস্ত্র এবং সোনা পাচারকারী সিন্ডিকেটের ডন বাদশা। এছাড়াও এই সিন্ডিকেটের সাথে প্রভাবশালী একটি চক্রের নাম উঠে আসছে। এর আগে মহেশপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে আটক সাড়ে ১২ কেজি সোনার মালিকও ছিল এই সিন্ডিকেট। সূত্র মতে, সাম্প্রতিককালের সব চেয়ে বড় সোনার চালান আটক হয় ২০১৮ সালের  ৯ ও ১০ আগস্ট। এই দু’দিনে পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে শার্শার নারিকেলবাড়িয়া ও শিকড়ি এলাকা থেকে প্রায় ৭৫ কেজি সোনার বারসহ তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৯ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা এই অভিযান চালান। উদ্ধার হওয়া সোনার দাম ৩৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আটক তিন ব্যক্তি হলেন শার্শা উপজেলার শিকারপুর গ্রামের মো. মহিউদ্দিন, বেনাপোলের সফুরা খাতুন ও ইসরাফিল। এসব অভিযানের কারণে পাচারকারী চক্রের সদস্যরা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। এ ছাড়া, বেনাপোলের আমড়াালী থেকে  ৫০ পিস সোনার একটি চালান আটক হয়। এই চালানটিও ছিল এই সিন্ডিকেটের। এভাবে সেহেল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মন-মন সোনা ভারতে পাচার করা হচ্ছে। মাছের কাটুনে করেও সোনার চালান পাচার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সীমান্তের সূত্রগুলো আরও বলছে, ঢাকার কুঞ্জ জুয়েলার্সের মালিক সুমন দে হচ্ছে সোনা সরবরাহকারীদের প্রধান হোতা। তার কাছ থেকে কামাল, শাহ আলম ও হেনাসহ বিপুল সংখ্যক ক্যারিয়ার সোনা বহন করে আনে। কেউ সরাসরি সীমান্তে গিয়ে নিদিষ্ট সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সীমান্ত পার করে দেয়। সোহেল সিন্ডিকেটের সোনা পুটখালী দিয়ে পাচার করে দেব, জিয়া, রেজা, আলমগীর, ইব্রাহীম সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এপারে সেই বস্ গৌতম, অপু, ডাকু এবং রবিউলসহ বিভিন্ন সিন্ডিকেটের হোতাদের ডেরায় ফৌছায়।  সেখান থেকে চলে যায় সরাসরি কলকাতা বড় বাজারের অমিত সাহার ডেরায়। এসব মালের মূল মালিক বাংলাদেশে ঢাকার সুমন দে এবং ভারতের অমিত সাহা। মধ্যের সবাই ক্যারিয়ার বলে জানা গেছে। যশোর ব্যাটালিয়ান (৪৯বিজিবি)-র সিও লে. কর্ণেল শাহেদ মিনহাজ সিদ্দিকী জানান,‘ শাহ আলম কৃষক সেজে ওই সোনার বার শ্মশানে রেখে আসতে গিয়েছিলেন। ওখান থেকে অন্য একটি গ্রুপের সদস্যদের সেগুলো নিয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই তাকে আটক করে বিজিবি। আলম ইতোপূর্বে আরও ছয়টি চালান সফলভাবে পাচার করেছে। সপ্তম চালান পাচারকালে তাকে আটক করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, অনেক সময় পরিত্যাক্ত অবস্থায় সোনর বার পাওয়া যায়। বিজিবির অভিযান বুঝতে পেরে সোনা ফেলে পালিয়ে যায়। যারা ধরা পড়ে তারা বাহক মাত্র। একারণে যেমন শিকড়ের গোড়ায় যাওয়া যায় না তেমনি আটক ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে থানায় দিতে হয় এ কারণে তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগও নেই। ৪৯বিজিবির শীর্ষ এই কর্মকর্তার মতে পুলিশ আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ব্যাপক রিম্যান্ডের মাধ্যমে আরো গভীরে যেতে পারে। এ বিষয়ে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন,‘মামলা হয়েছে তদন্তের আগে কিছুই বলা যাবে না।’ আটক ব্যক্তির কয়দিনের রিম্যান্ডের আবেদন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে বলেন, কাগজ-পত্র না দেখে কিছুই বলা যাবে না। এদিকে সীমান্তের সূত্রগুলো বলছে, বেড়ায় ক্ষেত খাচ্ছে বলেই সুমন-সোহেলরা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোয়ার বাইরে।

 

 

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »