সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০২:৩৫ পূর্বাহ্ন

প্রতিনিধি আবশ্যক :
বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা জয় বাংলা নিউজ ডট কম ( www.joibanglanews.com)এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা/থানা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীদের পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অভিজ্ঞতা ( যদি থাকে) উল্লেখ পূর্বক জীবন বৃত্তান্ত এবং মোবাইল নাম্বার সহ ইমেইলে ( joibanglanews@gmail.com ) আবেদন করতে হবে।
যশোরে ফ্রি ফায়ারে আসক্ত তরুণের জীবন চলছে শিকলে বাঁধা

যশোরে ফ্রি ফায়ারে আসক্ত তরুণের জীবন চলছে শিকলে বাঁধা

শহিদ জয়, যশোর 
যশোরের গদখালীতে পাবজি,তিনপাত্তি, ফ্রি ফায়ার নামক গেইমের নেশায় জড়িয়ে পড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে তামিম হোসেন (১৭) নামে এক তরুণ।
সে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সৈয়দপাড়া গ্রামের সাবুর আলির একমাত্র ছেলে।করোনাকালিন সময়ে সে টাউরা আজিজুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।
পাগলের মতো খেলতে থাকা তামিমকে দেখলে মনে হবে অবিকল ফ্রি ফায়ার গেইম খেলছে। এ অবস্থা থেকে তাকে বিরত রাখতে বর্তমান তার দু’হাত পা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে।
তামিমের পিতা সাবুর আলি বলেন, করোনায় মোবাইল গেইমে আসক্ত হয়েছে তার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তান।করোনা কালিন সময়ে স্কুল বন্ধ থাকায় তামিম মোবাইল ফোনে গেইম খেলত।কিছু দিনের মধ্যে সে পাবজি,তিনপাত্তি, ফ্রি ফায়ার নামক গেইমের নেশায় জড়িয়ে পড়ে।বারবার তাকে বারন করা সত্বেও নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে সে খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
“অনেক বকাঝকার পরও কোন ভাবেই তাকে গেইম খেলা থেকে বিরত রাখা যাচ্ছিল না।এখন সে পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।মোবাইল কেড়ে নিলেই পাগলের মতো ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করে তাই বাধ্য হয়েই বেঁধে রাখা হয়েছে।”
তামিম বলেন,গেম আগে ভালো লাগত না।বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন আসক্ত হয়েছি। এখন না খেললে ভালো লাগে না।
তামিমের একমাত্র বোন লাবনী আক্তার বলেন,আমরা দুই ভাইবোন।করোনার সময় আমি শ্বশুর বাড়ি ছিলাম।বাবা মা কাজে থাকত।ওর স্কুল বন্ধ ছিল।ও বাড়িতে বসে মোবাইলে গেইম খেলত।এতে করেই সে প্রায় পাগল হয়ে গেছে।তার চিকিৎসা করানো হচ্ছে তারপরও আমরা দুশ্চিন্তায় আছি।
তামিমের এমন পরিস্থিতিতে চরম ভাবে ভেঙে পড়েছেন তার স্বজনরা।তার পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য বুধবার যশোর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক আমিনুল ইসলামের কাছে তাকে নিয়ে যান বলে জানান তামিমের ভাগনা আল-আমিন।
যশোর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা.আমিনুল ইসলাম বলেন, সময়মত খাওয়া দাওয়া না করা ও অতিরিক্ত  রাত জাঁগার কারনে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।
সাবুর আলী বলেন,গ্রামের উঠতি বয়সের শিক্ষার্থী শিশু কিশোরদের মোবাইল  গেইমে আসক্ত হওয়ার খবর শুনেছি। আজ আমার নিজের সন্তানই এই গেইমে আসক্ত হয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে।একেবারেই পাগল হয়ে গেছে।সুস্থ করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ খাওয়াচ্ছি কিন্তু কাজ হচ্ছে না।
অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়ে সাবুর আলি বলেন,আপনার আদরের সন্তানের হাতে মোবাইল ফোন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।মোবাইল ফোন দিলে সেটার যথাযথ ব্যবহার সম্পর্কে দৈনিক খোঁজখবর নিন। অন্যথায় দেরি হয়ে গেলে আমার সন্তানের মতো সেও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে যেতে পারে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »