সোমবার, ২৩ মে ২০২২, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

প্রতিনিধি আবশ্যক :
বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা জয় বাংলা নিউজ ডট কম ( www.joibanglanews.com)এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা/থানা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীদের পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অভিজ্ঞতা ( যদি থাকে) উল্লেখ পূর্বক জীবন বৃত্তান্ত এবং মোবাইল নাম্বার সহ ইমেইলে ( joibanglanews@gmail.com ) আবেদন করতে হবে।
বিলুপ্ত হালখাতা, হারিয়ে যাচ্ছে বৈশাখী ও চৈত্র সংক্রান্তি মেলা

বিলুপ্ত হালখাতা, হারিয়ে যাচ্ছে বৈশাখী ও চৈত্র সংক্রান্তি মেলা

জয় বাংলা নিউজ প্রতিবেদক:

বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে হালখাতা প্রথা। সেই সাথে হারিয়ে যাচ্ছে বৈশাখী ও চৈত্র সংক্রান্তি মেলা। গ্রামীণ এসব ঐতিহ্যের স্থানে এসেছে আধুনিক মেলা। যা আগের মতো মানুষের হৃদয়কে টানে না। শহরে মেলায় লোকজনের সমাগম থাকলেও এখন সাড়া জাগানো সেই মেলা আর চোখে পড়ে না। বাঙালি সংস্কৃতির ধারক ও বাহক এসব মেলা হারিয়ে যেতে দেখে অনেকেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন।

প্রবীণ ব্যক্তিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দশক আগেও বৈশাখকে ঘিরে রংপুর নগরীর মাহিগঞ্জসহ কয়েকটি স্থানে জাঁকজমকভাবে মেলা হতো। মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসতো। মেলাকে সামনে রেখে কিছু কিছু ব্যবসায়ী কয়েক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতেন। মেলায় মৃৎ শিল্পসহ অনেক লোকজ শিল্পের পসরা বসতো। এখন আর এসব নেই।

রংপুরের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান কাজী মো. জুননুন হারিয়ে যাওয়া মেলা প্রসঙ্গে বলেন, মেলায় ছেলেমেয়েরা বায়না করতো নাগরদোলা, সাকার্স, যাত্রাপালা ও পুতুল খেলা দেখতে। অভিভবাকরা মেলায় তাদের ছেলে মেয়েদের আবদার পূরণ করতো। কিন্তু এখন আর সেব দেখা যায় না। সরকারিভাবে পহেলা বৈশাখ পালন করা হলেও তার মধ্যে প্রকৃত মেলার আমেজ নেই।

প্রবীণদের মতে, তিন থেকে চার দশক আগেও রংপুর জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় পহেলা বৈশাখকে ঘিরে প্রায় ৩ শতাধিক স্থানে মেলা বসত। ওইসব স্থানে এখন মেলা হয় না। এছাড়া পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে ঘোড়দৌড়, চৈত্রি সংক্রান্তি উপলক্ষে চড়ক পূজা ও মেলার আয়োজন করা হতো। এসব এখন নেই বললেই চলে।

অপরদিকে, পহেলা বৈশাখকে ঘিরে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হালখাতা করতেন। লাল কাপড়ে মোড়ানো নতুন খাতায় নতুন করে বাকি লেনদেনের হিসেব লেখা হতো। সেই খালখাতাও এখন দেখা যায় না। বিশেষ করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ধুমধাম করে হালখাতা করতেন। ব্যবসায়ীরা পুরাতন দেনা-পাওনা মিটিয়ে নতুন করে আবার ব্যবসা শুরু করতেন। মহাজনরা হালখাতা উপলক্ষে মিষ্টান্নের আয়োজন করতেন। এখানে অনেক সময় বাজি ধরে মিষ্টি খেতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বলত আমি ৭০টি মিষ্টি খেয়েছি। আবার কেউ বলত আমি আরও বেশি খেয়েছি। হালখাতা উপলক্ষে অনেকে অন্নভোজনের ব্যবস্থা করতেন। সময়ের পথ পরিক্রমায় নেই সেই মিষ্টান্ন প্রতিযোগিতা।

বস্ত্র ব্যবসায়ী শামসুল হুদা বলেন, আগের পাইকরা মহাজনের হালখাতাকে খুব সম্মান করতেন। যেভাবেই হক পুরনো হিসেব শোধ করে নতুন করে ব্যবসা শুরু করতেন। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিসহ নানান কারণে হালখাতা এবং খাওয়া দাওয়ার বিষয়টি উঠে গেছে।

 

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »