মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন

প্রতিনিধি আবশ্যক :
বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা জয় বাংলা নিউজ ডট কম ( www.joibanglanews.com)এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা/থানা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীদের পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অভিজ্ঞতা ( যদি থাকে) উল্লেখ পূর্বক জীবন বৃত্তান্ত এবং মোবাইল নাম্বার সহ ইমেইলে ( joibanglanews@gmail.com ) আবেদন করতে হবে।
শিরোনাম :
ট্রেনের নিচে ঝাপিয়ে জীবম দিলেন ৪ সন্তানের জননী আগামী ২০ মে থেকে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু অর্থের অপচয়রোধ নিশ্চিত করতে হবে… প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করে টিসিবি সমুদ্রে ৬৫ দিন মৎস্য আহরণ বন্ধ সারাদেশে একদিনে আট জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ভারতে পি কে হালদারের শাস্তি হতে পারে… পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ খাদ্যপণ্যে প্রভাব ফেলেছে…বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বড়াইগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে র‍্যাব নাজমুলকে গ্রেফতার যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে আরআরএফ’র কর্মকর্তা সবুজের বিরুদ্ধে যশোর আদালতে মামলা
চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে ডাঃ মুক্তাদির হাসপাতালের ভুমিকা শীর্ষে

চোখের আলো ফিরিয়ে দিতে ডাঃ মুক্তাদির হাসপাতালের ভুমিকা শীর্ষে

দিলীপ কুমার দাস:

অধ্যাপক ডা. এ কে এম মুক্‌তাদির হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর অবস্থান ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামে। এখানে নৈসর্গিক পরিবেশে সেবা নিতে আসছেন দূর-দূরান্তের মানুষ। ২০০৪ সালে এ গ্রামেই পাঁচ একর জমিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় হাসপাতালটি। আধুনিক ও উন্নতমানের চক্ষু চিকিৎসাসেবার কারণে সুনাম কুড়িয়েছে হাসপাতালটি। ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা এলাকার চক্ষুরোগীদের জন্য এটি এখন এক নির্ভরযোগ্য হাসপাতাল।

ডা. মুক্‌তাদির পেশাগত জীবনে ছিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চক্ষু বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান। ১৯৭৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন তিনি। চিকিৎসক হয়েই ১৯৭৬ সালে তিনি গৌরীপুর পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ে চক্ষুক্যাম্প শুরু করেন। ১৯৭৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত সেখানেই ক্যাম্প চালান তিনি।

এ সময় একটি আধুনিক চক্ষু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা ভাবতে শুরু করেন ডা. মুক্‌তাদির। তার স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে আসেন তার স্ত্রী গাইনি চিকিৎসক মাহমুদা খাতুন। নিজের পেনশনের সব অর্থ তুলে দেন স্বামীর হাতে। ২০০৪ সালে পাঁচ একর জমিতে ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন ডা. মুক্‌তাদির। বর্তমানে এটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হয়েছে। স্ত্রীর পাশাপাশি তার এ মহতী কাজে যুক্ত হয়েছেন তাদের চিকিৎসক সন্তানরাও।

ডা. মুক্‌তাদির চক্ষু হাসপাতালে চোখের ছানি অপারেশন (লেন্স প্রতিস্থাপন), নেত্রনালির চিকিৎসা, চোখের মাংস বৃদ্ধি, গ্লুকোমা, চোখ প্রতিস্থাপন, চোখের গুটি, বাঁকা চোখ, চোখের লেজারসহ বিভিন্ন সাধারণ ও জটিল রোগের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। রোগীদের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সব ব্যবস্থা রয়েছে এখানে।

বর্তমানে ডা. মুক্‌তাদির চক্ষু হাসপাতালটি চারতলা ভবনের। পুরো হাসপাতালে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। মনোরম পরিবেশ হাসপাতালজুড়ে। বাইরে সবুজে-ফুলে সজ্জিত, ভেতরে তকতকে। হাসপাতালের সামনেই মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে হরিণসহ বিভিন্ন পশু। স্টাফদের বিনয়ী আচরণে মুগ্ধ হন দূর-দূরান্তের রোগীরা। সপ্তাহের সাত দিনই হাসপাতালের বহির্বিভাগ চালু থাকে। দুইজন চিকিৎসক বহির্বিভাগে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সেবা দেন। আর আন্তঃবিভাগে দু’জন চিকিৎসক সেবা দেন। শুক্র ও শনিবার হাসপাতালটিতে সেবা দেন ডা. মুক্‌তাদির নিজেই।

ডা. মুক্‌তাদির মুক্তিযুদ্ধেও অংশ নেন। মুক্‌তাদির দম্পতির চার সন্তানই চিকিৎসক। এর মধ্যে ডা. মুশফিয়া রিফাত (গাইনি), ডা. মালিহা শারমিন (চক্ষু), ডা. মারুফ ওয়াহিদ (চক্ষু) ও ডা. মাশরুফ ওয়াহিদ (চক্ষু) চিকিৎসক। মেয়েদের স্বামী ও ছেলেদের স্ত্রীরাও চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত রয়েছেন।

প্রতি বছর শুধু নামমাত্র রেজিস্ট্রেশন ফিতে এই হাসপাতালে ছানি অপারেশনের ক্যাম্প করা হয়। দেশের প্রায় সব খ্যাতনামা চক্ষু চিকিৎসক এই হাসপাতালে এসে দরিদ্র রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা দেন। প্রত্যন্ত এলাকায় এমন চিকিৎসাসেবার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ডা. মুক্‌তাদির ২০১৪ সালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছ থেকেও পুরস্কার পান। চিকিৎসাশাস্ত্র ও সমাজসেবার জন্য তিনি ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে আরও ১১টি পুরস্কার পেয়েছেন।

হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকায় বাবার নামে আবদুল ওয়াহেদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট গঠন করেছেন। এর অধীনে আবদুল ওয়াহেদ মেমোরিয়াল প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্ত্রীর নামে মাহমুদা খাতুন হাফিজিয়া মাদ্রাসা এবং বায়তুল আমান জামে মসজিদ নামে একটি মসজিদও প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রতি বছর ট্রাস্ট থেকে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা হয়। চিকিৎসা পেশার পাশাপাশি ডা. মুক্‌তাদির একজন শিল্পসাধকও। বাংলাদেশ বেতারে ১৯৭২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ইলেকট্রিক হাওয়াইন গিটার পরিবেশন করে আসছেন তিনি।

ডা. মুক্‌তাদির বলেন, গ্রামের মানুষের সামর্থ্য নেই দূরে গিয়ে চিকিৎসা করানোর। তাই মানুষকে আধুনিক সেবা পৌঁছে দিতে প্রত্যন্ত গ্রামে তিনি হাসপাতাল গড়েছেন। ভালো সেবার জন্য এ দেশের রোগীরা ভারতে ছুটে যায়। বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা রোধ করে ভালো সেবা পেলে যে মানুষ প্রত্যন্ত গ্রামেও ছুটে যায়, সেই নজির তার হাসপাতাল সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছে। এ অঞ্চলের মানুষের জন্য আশীর্বাদ ডা. মুক্‌তাদির চক্ষু হাসপাতাল। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেই মানুষ সেবা নিতে আসে এখানে। আমরা এই হাসপাতালের কার্যক্রমে গর্বিত।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »