মঙ্গলবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:২০ অপরাহ্ন
হারুন অর রশিদ : স্বাধীন বাংলার মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবরের কিছু কথা। মহিউদ্দিন আহাম্মেদ স্মৃতিচারনা করতে গিয়ে লিখেছেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু বিমান থেকে নেমে লাউঞ্জে প্রবেশ করলে তিনি তাকে জড়িয়ে ধরে আবেগে ডুকরে কেঁদে উঠলে বঙ্গবন্ধু তার পিঠে হাত রেখে বলেছিলেন ভয় নাই আমি এসেগেছি লন্ডনের হোটেল থেকে বঙ্গবন্ধু ১০নং ডাউনিং স্ট্রেটে দেখা করতে গেলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের সঙ্গে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারও জনগন অন্তর্ভূক্ত সমর্থন জুগিয়ে বঙ্গবন্ধু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও তার দেশের জনগনকে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুললেন না।
পরদিন ব্রিটিশ সরকারের সহায়তায় তাদের রাজকীয় বিমান বাহিনীর একটি বিশেষ বিমানে লন্ডন থেকে ঢাকায় পথে বঙ্গবন্ধু দিলি¬তে স্বল্প যাত্রাবিরতি করেন। সেই সকালে বাঙালির অবিসাংবাদিত নেতাকে সব প্রটোকল ভেঙ্গে দিলি¬র পালাস বিমান বন্দরে রিসিভ করতে ছুটে এসেছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ডি গিরি আর প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধী। দিলি¬তে জানুয়ারী মাসের হাড় কাপানো শীতকে উপেক্ষা করে বিমান বন্দরে আরো জড়ো হয়েছিলো হাজার হাজার মানুষ। যাত্রাবিরতি কালে বঙ্গবন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধীকে আমাদের মুক্তিযুদ্ধে তিনি তার সরকার ও জনগনের সাহার্য্য ও সহায়তার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভারত নেত্রীকে একটিমাত্র প্রশ্ন করেছিলেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে কখন আপনি বাংলাদেশ থেকে ফেরত আনছেন ? ভারত প্রধানমন্ত্রী সংক্ষিপ্ত উত্তরে জানালেন যখন তিনি (বঙ্গবন্ধু) চাইবেন। বঙ্গবন্ধু বিলম্ব না করেই বললেন আমাদের প্রথম স্বাধীনতা দিবসের আগেই, অর্থাৎ ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চের আগে। কথামতো ১২ মার্চ ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে বিদায়ী সালাম জানিয়ে ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধর প্রথম জন্মদিন ১৭ মার্চ।
তেজগাঁও বিমান বন্দরে প্রথম বারের মতো বাংলাদেশে সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দ্রিরা গান্ধীকে সালাম জানিয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের নবগঠিত সেনাবাহিনী। প্রায় ৬০ বছরের বেশী সময় আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হলেও ইউরোপ ও জাপানে এখনো মিত্র শক্তির সেনাবাহিনী অবস্থান করছে। কিন্তু আজ আমরা জাতির জনকের স্বাধীন বাংলার সে অবদান সেটাকে ধরে রাখার মতো আমরা এখন পেয়েছি জাতীর জনকের কন্যা শেখ হাসিনার দান।
Leave a Reply