সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

যশোরে আর্থিক লেনদেনের কারণে খুন হয়েছে কাঠ ব্যবসায়ী মোস্তফা

যশোরে আর্থিক লেনদেনের কারণে খুন হয়েছে কাঠ ব্যবসায়ী মোস্তফা

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটিতে কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফাকে সুদের কারবারে আর্থিক লেনদেনের কারণে খুন করা হয়েছে। এ খুনের সাথে দুইজন জড়িত ছিলেন। বুধবার রাতে পুলিশে গোলাম মোস্তফাকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র (ছুরি) উদ্ধার করেছে। একই সাথে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আটক আব্দুল্লাহ ও শহিদুলকে নিয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার ও খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আজ  বৃহস্পতিবার  দুপুরে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন, কি কারণে এবং কারা এ খুনের সাথে জড়িত সে ব্যাপারে পুলিশ প্রেসব্রিফিং বিস্তারিত জানান পূলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন৷ আব্দুল্লাহ চুড়ামনকাঠি গ্রামের উত্তরপাড়ার আব্দুর রহমানের ছেলে আর শহিদুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলাহ সাখারী গাতী গ্রামের মাজেদ মোল্যার ছেলে৷ সে পেশায় বাস চালক।

যশোরের পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন জানান,চুড়ামনকাঠি এলাকা কার বাগডাঙ্গা গ্রামের  কাঠ ব্যাবসায়ি গোলাম মস্তফা গত ২৪ অক্টোবর বিকাল ৪টার দিকে বাড়ি থেকে বাহির হয়৷ রাত সাড়ে সাত টা থেকে আট টার ভিতর  ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা চুড়ামন কাঠি ভৈরব নদীর পাড়ে খুন হয়৷ ২৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টির দিকে তার লাশ নদীতে ভাসতে দেখে লাশ উদ্ধার করা হয়৷ পুলিশ সুপার আরো জানান,ঘটনার দিন আটক আব্দুল্লা আল মামুন তার বন্ধু সহিদুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে মটর সাইকেল যোগে খুলনা বাসস্টান্ড থেকে চুড়ামন কাঠি বাজারে আসে৷ এসে আব্দুল্লা আল মামুন গোলাম মস্তফা মোবাইল ফোন করে  বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসে৷ যে সহিদুল একটা বড় কাঠ ব্যাবসায়ি ১১ শ টাকা করে মেহগনী কাঠ কিনবে৷ এরপর মস্তফা চুড়ামন কাঠি বাজারে আসে৷ নিহত গোলাম  মোস্তফা ও তার দুই খুনি আব্দুল্লা আল মামুন ও সহিদুল ইসলাম সলুয়ার বাজারে যায়৷ সেখামে তারা ফেন্সিডিল খায় ও গাজা সাথে করে নিয়ে আসে৷ এরপর তারা সন্ধা পরে ভৌরব নদীর পাড়ের উচু জায়গয় মেহগনী বাগানে গাঁজা খেতে বসে৷ এক পর্যায়ে আব্দুল্লাহ আল মামুন তার কাছে থাকা ছুরি দিয়ে গোলাম মোস্তফার গলায় পোচ মারে৷ এক পর্যায়ে তাদের মধ্য ধস্তাধস্তি হয়ে তারা নদীর উপরের পাড় থেকে নদীর নিচে পড়ে যায়৷ সে সময় সহিদুল ইসলাম গোলাম মোস্তফার হাত পা চেপে ধরে৷ আব্দুল্লা আল মামুন গোলাম মোস্তফার গলায় পোচ মেরে হত্যা করে৷ আব্দুল্লাহর স্বীকারোক্তিতে বাড়ির একপাশে লুকিয়ে রাখা ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ।

আব্দুল্লাহ ও শহিদুল হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন। তারা দুই জনে মিলে গোলাম মোস্তফাকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন। আব্দুল্লাহ খুনের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে পুলিশকে জানিয়েছে, আব্দুল্লাহ ও মোস্তফার মধ্যে ২লাখ ৪৩ হাজার টাকা সুদ হিসাবে নেয়৷ সে কারনে তার বিভিন্ন সময় ১০ লাখ টাকা মোস্তফাকে দিয়েছে৷ তারপর ও ২লাখ ৪৩ হাজার টাকা শোধ হয় না৷ এই টাকার কারনে বিভিন্ন সময় অপমান করতো৷ যে কারণে মোস্তফাকে খুনের পরিকল্পনা করে আব্দুল্লাহ৷ সর্ব শেষ ২৪ অক্টোবর রাতে গোলাম মোস্তফাকে হত্যা করে আব্দুল্লা আল মামুন ও সহিদুল এমন টায় বলছিলেন পুলিশ সুপার৷ এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সালাউদ্দিন শিকদার,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বিশেষ শাখা) তৌহিদুল ইসলাম,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ক সার্কেল গোলাম রব্বানী,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অপু সরোয়ার,ভিবির ওসি সোমেন দাস ,মামলার আই ও উপ-পরিদর্শক(এস আই) কামরুজ্জামান প্রমুখ৷।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »