মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে গোপালগঞ্জের লাল শাপলার বিলগুলো

ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে গোপালগঞ্জের লাল শাপলার বিলগুলো

জয় ডেস্ক: ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে গোপালগঞ্জের লাল শাপলার বিলগুলো। সৌন্দর্য পিপাসুদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে এসব বিলে ফুটে থাকা অসংখ্য লাল শাপলা। বিলের পর বিল শুধু লাল শাপলা আর সবুজ পাতার সমারোহ। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন সবুজ প্রকৃতির মাঝে লাল গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে।

প্রতিদিন এসব শাপলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে বিলগুলোতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে এসব বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন অনেকেই। কিছুটা সময়ের জন্য হলেও এসব ভ্রমণপিপাসুরা প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যান। উপভোগ করেন প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য।

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় অন্তত ২৫টি লাল শাপলার বিল রয়েছে। এর মধ্যে কান্দি, ছত্রকান্দা, জোয়ারিয়ার বিল উল্লেখযোগ্য। এছাড়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠি ও ডোমরাশুর বিলেও লাল শাপলার দেখা মিলবে। এসব বিলে বোরো মৌসুমেই শুধুমাত্র ধান চাষ করে কৃষকরা। এরপর জমিতে বর্ষার পানি এসে যায়। সেখানেই প্রতি বছর প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয় লাল শাপলা।

অনেক বছর আগে এসব বিলের জমিতে সাদা-সবুজ শাপলা জন্ম নিলেও ১৯৮৮ সালের বন্যার পর থেকে শুরু হয় লাল শাপলা। বর্ষা থেকে শীতকাল পর্যন্ত বিলগুলোতে লাল শাপলা থাকে। এসব বিলে আসা দর্শনার্থীদের নৌকায় ঘুরিয়ে বাড়তি আয় করছে স্থানীয়রাও। এছাড়া এসব বিলের শাপলা ও মাছ বিক্রি করেও কেউ কেউ জীবিকা নির্বাহ করছেন।

কোটালীপাড়ার কান্দির লাল শাপলা বিলকে শাপলালয় ঘোষণা করেছে প্রশাসন। এছাড়া দর্শনার্থীদের উপভোগের জন্য নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিলের মধ্যে দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। বিল ঘুরে দেখার জন্য নৌকার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। দর্শনার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের পিঠার আয়োজনও রয়েছে। অন্য বিলেও ঘোরার জন্য নৌকার ব্যবস্থা আছে। সামান্য কিছু টাকা খরচ করলে যে কেউ এসব লাল শাপলার বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন।

ঢাকা থেকে লাল শাপলার বিল ঘুরতে আসা মো. আশরাফুল আলম, মো. আবুল খায়ের, মো. মশিউর রহমান ও মশিউর রহমান আকন্দ বলেন, শাপলার বিলের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে আমরা বিমোহিত। দেশের আনাচে-কানাচে এমন অনেক প্রাকৃতিক দৃশ্য ছড়িয়ে রয়েছে। এতো সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য সবার দেখা উচিত। এতে কিছু সময়ের জন্য হলেও প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যাওয়া যায়।

কান্দি ইউপি চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেন, এ ইউপির লাল শাপলা বিলকে শাপলালয় ঘোষণা দেয়ার পর থেকে এখানে আসা দর্শনার্থীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বিলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারছেন। প্রতিদিনই এ বিল দেখার জন্য ভ্রমণপিপাসুরা আসছেন। দর্শনার্থীদের ইউপি কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। গ্রামীণ পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়। সারাদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের এখানে আসার আহবান জানাই। এখানে এলে যে কারো ভাল লাগবে।

জয় বাংলা নিউজ/ডেবা

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »