মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলাকারী প্রধান আসামি আটক

ইউএনও ওয়াহিদার ওপর হামলাকারী প্রধান আসামি আটক

মঈন উদ্দীন চিশতী, দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানম ও তার বাবাকে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি আসাদুল ইসলামকে (৩৫) হিলির কালীগঞ্জ মহল্লা থেকে বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, থানা পুলিশ এবং র‍্যাব রংপুরের একটি দল যৌথ অভিযানে আটক করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত ব্যক্তি এই ঘটনার মূল আসামী। আজ (শুক্রবার) ভোররাত পৌনে পাঁচটার দিকে হাকিমপুর উপজেলার হিলির কালিগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সে ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুরের আমজাদ হোসেনের ছেলে।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌস ওয়াহিদ আটকের বিষয়টি আমাদেরকে  নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ  আরো জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, থানা পুলিশ এবং র‍্যাব রংপুরের একটি দল যৌথভাবে  কালিগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসাদুল হককে আটক করে। তাকে রংপুরে র‍্যাবের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েেছ।
এদিকে হামলার ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদার বড় ভাই শেখ ফরিদ উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪ থেকে ৫ জনের বিরুদ্ধে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘোড়াঘাট থানা ওসি আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিট থেকে  ভোর ৪টা ২৫ মিনিটের মধ্যে দুষ্কৃতিকারীরা সরকারি বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে মইয়ের মাধ্যমে  প্রবেশ করে শোয়ার ঘরে ঢুকে পড়ে।
এসময় ইউএনও টের পেলে তার কাছে দুষ্কৃতিকারীরা আলমারির চাবি চায় এবং কোথায় কি আছে জানতে চায়। এ সময় ইউএনও এসব বলতে অস্বীকৃতি জানালে দুষ্কৃতিকারীদের হাতে থাকা লোহার হাতুড়ী দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। তাদের হাত থেকে রেহাই পেতে রক্তাক্ত অবস্থায় তার চিৎকারে তার বাবা ওমর আলী এগিয়ে আসলে তাকেও আঘাত করে দুষ্কৃতিকারীরা।
পরে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে দুজনকে সরকারি বাসভবন থেকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে রংপুরে পাঠানো হয়। রংপুর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর ক্যান্টনমেন্ট থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ওয়াহিদা খানমকে ঢাকায় আনা হয়। ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয় ওয়াহিদা খানমকে।
অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার করা নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন মেডিকেল বোর্ড। পরে অবস্থার উন্নতি হলে রাত নয়টার তার অস্ত্রোপচার হয়। অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসক বলেন, অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে, তাকে অবজারভেশনে রাখা হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »