রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন

প্রতিনিধি আবশ্যক :
বহুল প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা জয় বাংলা নিউজ ডট কম ( www.joibanglanews.com)এর জন্য জরুরী ভিত্তিতে দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা/থানা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক (খালি থাকা সাপেক্ষে) প্রতিনিধি আবশ্যক। আগ্রহী প্রার্থীদের পাসপোর্ট সাইজের ১ কপি ছবি, জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, অভিজ্ঞতা ( যদি থাকে) উল্লেখ পূর্বক জীবন বৃত্তান্ত এবং মোবাইল নাম্বার সহ ইমেইলে ( joibanglanews@gmail.com ) আবেদন করতে হবে।
গৃহবন্দী অসহায় মানুষের তালিকা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই

গৃহবন্দী অসহায় মানুষের তালিকা নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই

লায়লা পারভীন, যশোর : বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন সর্বস্তরের মানুষের জন্য হাতে নিয়েছেন নানা প্রকল্প, অব্যাহত রেখেছেন আর্থিক সহযোগিতার নানান কর্মসূচি। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছেন কঠোর হুশিয়ারী বার্তা। এমন পরিস্থিতিতেও দেখা গেছে অসাধু জনপ্রতিনিধিদের চাল চুরির মহোৎসব। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে গৃহবন্দী অসহায় মানুষের তালিকা প্রস্তুত নিয়ে। আবার এমন অভিযোগও এসেছে একই পরিবার থেকে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার ঘটনা।

গত ৯ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান এক পত্রের মাধ্যমে যশোর সদর উপজেলার ২ শত ৫০ টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৫শ শিক্ষকের উপর প্রকৃত অসহায় গৃহবন্দী মানুষের তালিকা করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৪ এপ্রিল শিক্ষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে ঐ তালিকা জমা দেন। শিক্ষকদের তালিকা প্রস্তুত নিয়ে উঠে এসেছে নানান অভিযোগ এবং সেটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। আরও একটি অভিযোগ এসেছে বাদপড়া প্রকৃত অসহায় ভুক্তভোগী কিছু লোকজনের কাছ থেকে। এ অভিযোগ যশোর সদর উপজেলার কিছু ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ড থেকে এসেছে। এমনকি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও এ অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ প্রকৃত তালিকা থেকে একদিকে যেমন তারা বাদ পড়েছেন অন্যদিকে কিছু অসাধু লোকজন একই পরিবার থেকে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন। এর ফলে তালিকা থেকে বাদপড়া অসহায় লোকজন মনে করছেন, তারা হয়তো তাদের প্রাপ্য হক থেকে বঞ্চিত হতে পারেন অন্যের কারণে।
এনালগ জাতীয় পরিচয়পত্রে বিবাহিত মহিলাদের স্বামীর নাম উল্লেখ ছিল। ডিজিটাল জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতার নাম উল্লেখ আছে। কেউ কেউ নতুন ও পুরাতন দুইটি পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিয়েছেন। আবার একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রে আলাদা আলাদা স্থানের ঠিকানা থাকায় একই পরিবার থেকে ২ টি জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন। আবার কোন কোন পরিবার কোন প্রকার ছল চাতুরী ছাড়াই ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক পরিচয়পত্র জমা দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপিতে পরিবারের সদস্য সংখা বেশি উল্লেখ করেছেন। শিক্ষকরা বাড়িতে বাড়িতে না গিয়ে সত্যিকার অর্থে যাচাই বাছাই না করে এক জায়গায় বসে তালিকা করায় কিছু অসাধু লোকজন এ সুযোগটি নিয়েছেন। এতে অনেক বাদপড়া পরিবার আশংকা করেছেন তারা হয়তো সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
একই পরিবার থেকে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র জমাদানকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া কিংবা তালিকা যাচাই বাছাই করা হবে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সিরাজুল ইসলাম বলেন “আমি প্রথমে ধন্যবাদ জানাই আমার শিক্ষকদের প্রতি। এই খারাপ পরিস্থিতিতে তারা যে তালিকা করেছে সেজন্য। আর কেউ যদি একই পরিবার থেকে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র জমা দেন সেটি তাদের নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচয়। এ ব্যাপারে আমরা কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারব না। আমাদের উপর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ভিত্তিক দুস্থ সাংবাদিক, দিনমজুর, চায়ের দোকানদার, রিকসাচালক এই শ্রেণির মানুষের তালিকা প্রস্তুত করা। এই তালিকা অনুযায়ী সরকার কোন প্রকার আর্থিক সহায়তা দিবেন কিনা সেটিও আমরা জানিনা। আমরা কেবল এই তালিকা করার ক্ষেত্রে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাহায্য করছি।”

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
Translate »