শনিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২০, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

কচ্ছপগতি মৌলিক সাক্ষরতায়

কচ্ছপগতি মৌলিক সাক্ষরতায়

জয় ডেক্স : দেশের বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে চায় সরকার। জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে বিভিন্ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে অশিক্ষিত এবং ন্যূনতম সাক্ষরহীন মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ২০১৪ সালে হাতে নেয়া হয় মৌলিক স্বাক্ষরতা প্রকল্প। ৪ শত ৫২ কোটি ৫৮ লক্ষ টাকা ব্যয়ে দেশের ৮ বিভাগের ২৫০ টি উপজেলায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা প্রাথমিক ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর।

 প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্টসংখ্যক মানুষকে শিক্ষার আওতায় আনতে ব্যর্থ হয় প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। বাড়ানো হয় এক বছর মেয়াদ। গত জুনে সেই মেয়াদও শেষ হয়। তখন  প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ছিলো মাত্র ৩৬ দশমিক ২৭ ভাগ।
সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দ্বিতীয় ধাপে অর্থাৎ ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত (ব্যয় না বাড়িয়ে) আবারো এ প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাতেও সফলতার মুখ দেখেনি প্রকল্পটি। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ২৩ লাখ ৬০ হাজার অর্থ্যাৎ ৫৩ ভাগ মানুষকে মৌলিক সাক্ষরতার আওতায় আনা হয়েছে। ফলে অধরাই রয়ে গেছে প্রকল্পের সুফল।
এবার সেই সময়ের মধ্যেও কাজ শেষ না হবার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এজন্য দুইবার মেয়াদ বাড়ানোর পর নিয়ম ভেঙ্গে আবারো মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো। যদিও ২০১৬ সালে জারি করা ‘সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধনী’ পরিপত্রের দুই নম্বর ধারায় বলা আছে, ‘কোনো প্রকল্পের মেয়াদ দুইবারের বেশি বাড়ানো যাবে না।’ এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা হলো, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আরো এক বছর মেয়াদ বাড়ানো দরকার।
প্রকল্পের যত সমস্যা
বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) এ বছরের জুনে প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এ প্রকল্পের ৩৬ দশমিক ২৫ ভাগ প্রাথমিক বিদ্যালয় বা মাদরাসায় শিখন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলেও অনেক শিখন কেন্দ্রের জন্য নির্দিষ্ট ও স্থায়ী অবকাঠামো বা জায়গা নেই। যেমন- ৬৩ দশমিক ২৫ ভাগ শিখন কেন্দ্র স্থানীয় লোকের বাসস্থান বা খোলা জায়গায় স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের বসার ব্যবস্থাসহ অন্যান্য উপকরণ যেমন- মাদুর, ব্ল্যাকবোর্ড, খাতা, কলম ইত্যাদি পর্যাপ্ত নয়। যদিও এসবের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ ছিল, কিন্তু তা খরচ করেনি বা করতে পারেনি বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকল্প পর্যবেক্ষণ, বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অস্থায়িত্ব এ প্রকল্পের অন্যতম দুর্বল দিক। বিশেষ করে প্রকল্পের পরিচালক ভারপ্রাপ্ত, উপ-পরিচালক পদসহ সহকারী পরিচালকদের একাধিক পদ শূন্য।
শিক্ষকরা উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) উল্লিখিত তাদের স্বল্প বেতন ও বেতন পাওয়ার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তুষ্ট। যা শিক্ষকদের মাঝে নিয়মিত ক্লাস নেয়ায় অনিচ্ছা তৈরি করে।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয় না। এতে প্রকল্প কার্যক্রমের পরিবীক্ষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। প্রকল্পে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়াও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নকারী এনজিওগুলোর কর্মদক্ষতা, ব্যবস্থাপনা ও জনবল পর্যবেক্ষণে দেখা যায় যে, বেশির ভাগ এনজিওর প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতা থাকলেও অপেক্ষাকৃত কম সক্ষমতাসম্পন্ন বাস্তবায়নকারী এনজিওগুলো (১৬টি বাস্তবায়নকারী এনজিওর মধ্যে অন্তত দুটি) তাদের দায়িত্ব পালনে কতটুকু সামর্থ হবে, তা বিবেচনা করতে হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রকল্পের তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পুরুষ শিক্ষার্থীরা শিখন কেন্দ্রে আসতে চান না।
এ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রকল্প পরিচালক মো. আব্দুর রহমান দৈনিক সকালের সময়কে বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকল্পের মেয়াদ আবারো বাড়ানোর জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। যেখানে আমাদের এক বছরে ২১ লাখ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনার লক্ষমাত্রা রয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৫৩ ভাগ।
তিনি আরো বলেন, প্রকল্পে শিক্ষকদের বেতন মাত্র ১২০০ টাকা। একজন শিক্ষকের ১২০০ টাকা বেতন হলে সে কী পড়াবে? বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য আমরা চেষ্টা করেছি, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি।’
এ প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার দৈনিক সকালের সময়কে বলেন, সরকারি কাজে দায়বদ্ধতা না থাকায় এমন ঘটছে। জবাবদিহিতা থাকলে এমন ঘটনা ঘটত না। এছাড়াও সরকারি কোন কাজে (প্রকল্পে) তেমন সফলতা থাকে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সুত্র: সকালের সময়

খবরটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com