বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০২:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
যবিপ্রবির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

যবিপ্রবির প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ

স্টাফ রিপোর্টার : যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের  ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ছয়টি ইউনিটেরই ফলাফল একযোগে প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন এ ফলাফল প্রকাশ করেন। প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তির আবেদন, ফলাফল প্রকাশ ও চয়েস ফর্ম পূরণসহ যাবতীয় কার্যাবলী সম্পাদন করা হচ্ছে।

এ সময়  উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মজিদ, ডিন্স কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোঃ আনিছুর রহমান, ডিন ড. এ এস এম মুজাহিদুল হক, অধ্যাপক ড. মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস, ড. কিশোর মজুমদার, ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ড. জাফিরুল ইসলাম, অধ্যাপক ড. শেখ মিজানুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ ইকবাল কবীর জাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক ড. মোঃ নাজমুল হাসান, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ আহসান হাবীব, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী মোঃ হেলাল উদ্দিন পাটোয়ারি ও সাধারণ সম্পাদক এ টি এম কামরুল হাসান, কর্মচারী সমিতির সভাপতি সাজেদুর রহমান জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক কে এম আরিফুজ্জামান সোহাগ প্রমুখ।

বক্তব্যের শুরুতেই যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ভর্তি পরীক্ষার্থী, যশোর জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের মোবাইল, ব্যাগসহ যাবতীয় দ্রব্যাদি সংরক্ষণ এবং তাদের সার্বিক সহযোগিতা করায় যবিপ্রবি ছাত্রলীগ, সাংবাদিক সমিতি, বিভিন্ন ক্লাব, জেলা ও থানা সমিতিসমূহ; যে সকল কলেজসমূহে যবিপ্রবির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সে সমস্ত কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ছয়টি ইউনিটের মধ্যে ‘এ’ইউনিটের ২৪৫টি আসনের বিপরীতে ১৪ হাজার ১৮৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৯ হাজার ৭০২ জন। পাশের হার ৯.৯৭ শতাংশ। ‘বি’ ইউনিটের ১৯০টি আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ৪০১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন আট হাজার ৯৯৭ জন। পাশের হার ১৯.৯৮ শতাংশ। ‘সি’ ইউনিটের ২৫৫টি আসনের বিপরীতে ৯ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। ভর্তি পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ৬ হাজার ৭৫৪ জন। পাশ করেন ৩ হাজার ৬২৩ জন। পাশের হার ৫৩.৬৪ শতাংশ। ‘ডি’ ইউনিটের ৪০টি আসনের বিপরীতে ৩ হাজার ৪৩৫ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। এরমধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ১৮৫ জন। পাশ করেন ৬৩ জন। পাশের হার ২.৮৮ শতাংশ। ‘ই’ইউনিটের ২৫টি আসনের বিপরীতে ৯৯২ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে ৬৮৩ জন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে পাশ করেন ৩০৫ জন। পাশের হার ৪৪.৬৫ শতাংশ। ‘এফ’ ইউনিটের ১৫৫টি আসনের বিপরীতে ২ হাজার ৯৬৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৪৪ জন। পাশ করেন ৫২১ জন। পাশের হার ২৫.৪৮ শতাংশ।

ছয়টি ইউনিটে ৯১০ আসনের বিপরীতে মোট ৪৩ হাজার ১৮২ জন আবেদন করেন। তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ৩০ হাজার ১৪১ জন। পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল ৬৯.৮০ শতাংশ। গত বছর উপস্থিতির এ হার ছিল ৭২.১২ শতাংশ। যদিও বিভিন্ন রুটে পরিবহন চলাচল বন্ধ ছিল। তারপরেও রেল এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহনের সার্বিক সহযোগিতার কারণে ভর্তির পরীক্ষার্থীদের আগমনকে ব্যহত করতে পারেনি। এ কারণে আমি বাংলাদেশ রেলওয়েকে এবং আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এখন র‌্যাগিং, টর্চার সেল ও নিপীড়ন মুক্ত হওয়ায় এবং একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা হওয়ায় শিক্ষার্থীদের আগ্রহকে পরিবহনের অচলাবস্থা দমাতে পারেনি।

অধ্যাপক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রশ্নের যেকোনো ত্রুটি বা বেনিফিট অব ডাউট শিক্ষার্থীদের পক্ষে রেখে ফলাফল মূল্যায়ণ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কোনো শিক্ষার্থীর যদি সংশয় থাকে বা তাঁর মেধার প্রকৃত মূল্যায়ণ হয়নি বলে মনে করেন, তাহলে ওই পরীক্ষার্থীর আবেদন সাপেক্ষে তাঁর ফলাফল পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষা, ভর্তি পরীক্ষাসহ সকল কার্যক্রম উন্মুক্ত। এখানে সংশয়ের কিছু নেই।

খবরটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com