শনিবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৯, ০১:১০ অপরাহ্ন

দ্বিতীয় সংশোধনীতে ৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

দ্বিতীয় সংশোধনীতে ৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

জয় ডেক্স : সমগ্র বাংলাদেশের পল্লী অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ করে গ্রামীন জনসাধারণের জীবন মান উন্নয়নের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে পল্লী অঞ্চলে পানি সরবারহ প্রকল্প হাতে নেয় সরকার।
৭ শত ৯৯ কোটি ৯৮ লক্ষ ৩ হাজার টাকা ব্যয়ে “পল্লী অঞ্চলে পানি সরবরাহ” নামক প্রকল্পে উদ্যোগী হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচ) কে। কথা ছিলো ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে প্রকল্পের কাজ।
মেয়াদ ঠিক রেখে প্রথম সংশোধনীতে বাড়ানো হয় প্রকল্পের খরচ। এ ধাপে বাড়ানো হয় ৩৯ কোটি টাকা। সংশোধন করে প্রকল্পের মোট খরচ দাড়াঁয় ৮ শত ৩৯ কোটি ৮৭ লাখ ১৬ হাজার টাকা।
তবে দ্বিতীয় সংশোধনে আবারো  প্রায় ৮০ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এক বছর ৬ মাস সময় বাড়ানোর পাশাপাশি ৮ শত ৮৯ কোটি ৮০ লক্ষ ১৭ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে প্রকল্পটিতে।
নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে ২০২১ সালের জুন মাসে।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিসের সভাপতিত্বে প্রকল্পের ২য় সংশোধনী প্রস্তাবের উপর পিইসি সভা আগামী রোববার অনুষ্ঠিত হবে।
৯০ এর দশকে দেশের এক তৃতীয়াংশ নলকূপ আর্সেনিকে আক্রান্ত হওয়ায় নিরাপদ পানির সংকটে পড়ে দেশের পল্লী অঞ্চল। এছাড়া  জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং স্থাপিত নলকূপের কিছু কিছু অকেজো হয়ে যাওয়ায় নিরাপদ পানির কভারেজ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতি বছর ৩৫-৪০ হাজার নতুন নলকূপ স্থাপনের প্রয়োজন হয়। এ লক্ষ্যে ২০১৫ সালের পহেলা ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন হয়। প্রকল্পসূত্রে জানা যায়,  গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানির উৎস স্থাপন করা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অন্যান্য কারণে ক্ষতিগ্রস্থ পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পুর্নবাসন করা, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নে জনগণের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধি, পানির উৎস নির্ধারণে টেকনোলজিক্যাল ম্যাপ প্রণয়ন প্রকল্পের উদ্দেশ্য।
প্রকল্প সূত্রে আরো জানা যায়, ৯০ এর দশকের প্রথমার্ধে দেশের ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে দেশের অগভীর নলকূপের প্রায় ৩০ শতাংশ  আর্সেনিক আক্রান্ত চিহ্নিত হওয়ায় নিরাপদ পানির সরবরাহের কভারেজ প্রায় ৭৪ শতাংশে নেমে যায়। এতে পল্লী অঞ্চলে নিরাপদ পানি পাওয়া দুস্কর হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় পল্লী এলাকায় নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সরকার ও বিদেশী দাতা সংস্থার অর্থায়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
প্রকল্পেটি চলতি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের এডিপিতে চলমান প্রকল্প তালিকায় মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ সহ অন্তভুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়।
যে কারণে দ্বিতীয় সংশোধনের প্রস্তাব:
সংশোধিত ডিপিপিতে জেলা পরিষদের মালিকাধীন ১৪৩ টি পুকুর পুন:খনন সহ পিএসএফ নির্মাণ ও ২০০ টি পুকুর খননের সংস্থান রয়েছে।  জুন ২০১৯ পর্যন্ত  ৬০ টি পুকুর পুন:খননের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। ২৩ পুকুর পুন:খননের কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অবশিষ্ট ৬০ টি পুকুরের পাড়ে অবৈধ স্থাপনা, দখল, পুকুরের অস্তিত্ব না পাওয়া ও জেলা পরিষদের কাছ থেকে সাইট বুঝে না পাওয়া  ও সীমানার গড়মিল প্রভৃতি কারণে ঔসকল পুকুর খনন সম্ভব না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হয়েছে বলে প্রকল্পসূত্রে জানা যায়।
এছাড়া পরিপত্র অনুযায়ী ৬৩ টি পুকুরের স্থান নির্বাচনসহ প্রাক্কালন প্রস্তুত করা হয়েছে যা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অবশিষ্ট ১০০ টি পুকুর খননের জন্য বিনামূল্যে পুকুর পাওয়া যাচ্ছে না। আর নিরাপদ পানির জন্য ৪০ টি সৌরশক্তি চালিত পিএসএফ ও ৩২০ টি হস্ত চালিত সাধারণ পিএসএফ এর সংস্থান রয়েছে। যদিও সাধারণ পিএসএফ এর তুলনায় সৌরশক্তি চালিত পিএসএফ নতুন প্রযুক্তি ও অধিক টেকশই, তাই সাধারণ পিএসএফ এর পরিবর্তে সৌরশক্তি চালিত পিএসএফ প্রয়োজন।
যেসব কারণে বাড়ছে প্রকল্প ব্যয়:
মূল অনুমোদিত প্রকল্পে অগভীর নলকূপ ছিলো ১৩ হাজার ৬৭৫ টি যা প্রথম সংশোধনে বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ১শত ৪৯ টি। দ্বিতীয় সংশোধনে ৩ হাজার ৫ শত ১৯ টি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে মূল অনুমোদিত প্রকল্পে গভীর তারা নলকূপ ছিলো ১৫ হাজার ৮ শত টি। প্রথম সংশোধনে ৩ শত ৪৯ টি বাড়ানো হলেও দ্বিতীয় সংশোধনে ২ হাজার ৬ শত ৫ টি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া ৬ নং গভীর নলকূপ প্রথম পর্যায়ে ৮ হাজার ৬ শত ৬২ টি বাড়ানো হয়  ও দ্বিতীয় পর্যায়ে ৫ হাজার ২ শত ১৭ টি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। যদিও মূল অনুমোদিত প্রকল্পে ৬ নং গভীর নলকূপের সংখ্যা ছিলো ২ হাজার ৮ শত ১৪ টি।
পাতকুয়া স্থাপন ও পুর্নবাসন খাতেও ব্যয় বাড়ানোর পাশাপাশি স্কুল সমূহে সৌরশক্তি চালিত নলকূপ, কমিউনিটি বেইজড রির্ভাস অসমোসিস ইউনিট স্থাপনে বেড়েছে খরচ। প্রকল্পসূত্রে আরো জানা যায়, মূল প্রকল্পে সরবরাহ ও  সেবা খাতে ৮ কোটি ৮ লক্ষ টাকা ধরা হয়েছিলো। মেয়াদ না বাড়লেও প্রথম সংশোধনে তা বেড়ে দাড়াঁয় ৮ কোটি ৯৩ লক্ষ টাকা । যা দ্বিতীয় সংশোধনীতে ১১ কোটি ১৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
ফোন ধরেন না প্রকল্প পরিচালক:
এ বিষয়ে একাধিকবার  প্রকল্পটির পরিচালক মোঃ মোস্তফার সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হয়। বেশ কয়েকবার ফোন ও মেসেজ পাঠানো হলেও কোনটির উত্তর দেননি তিনি। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সাইফুর রহমানের সাথে কথা বলা চেষ্টা করা হয়। তার অফিসিয়াল নাম্বারে বেশ কয়েক যোগাযোগ করা হলে প্রতিবারই তিনি মিটিং এ আছেন বলে জানানো হয়।
বছরে অগ্রগতি সামান্যই:
প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়, জুন ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রকল্পের ক্রমপুঞ্জিত আর্থিক অগ্রগতি ৩ শত ৮২ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা। যা মোট অনুমোদিত ব্যয়ের ৪৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

 

 

সুত্র:সকালের সময়

 

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com