বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০৫:২৭ অপরাহ্ন

কোটি টাকার বাণিজ্যের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজের আউট সোর্সিংয়ের ২৫জনকে অব্যহতি

কোটি টাকার বাণিজ্যের জন্য যশোর মেডিকেল কলেজের আউট সোর্সিংয়ের ২৫জনকে অব্যহতি

 

স্টাফ রিপোর্টার: নতুন করে নিয়েগের মাধ্যমে কেটি টাকা অর্থ বানিজ্য করার নীল নকশা বাস্তবায়নে বুধবার থেকে হঠাৎ করে যশোর মেডিকেল কলেজে (যমেক) কর্মরত ২৫ জন আউট সোর্সিং অফিস সহায়ককে চাকুরি থেকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে। ফলে কলেজে কর্মরত ডাক্তারদের সাথে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের অন্তদ্বন্দ শুরু হয়েছে।

যশোর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা: গিয়াস উদ্দিন, হিসাব রক্ষক জয়নাল আবেদিন, প্রধান অফিস সহকারী আব্দুস সবুর খান ও স্টোর কিপার আতিয়ার রহমান এই ৪ জন মিলে অর্থ বানিজ্যে নীল নকশা এটেছেন বলে কয়েকজন ডাক্তার ও বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে। অথচ বিষয়টি সম্পর্কে আউট সোর্সিং স্টাফ নিয়েগ ও তদারক কমিটির সদস্য ডা: আক্তারুজ্জামান, ডা: দিন উল ইসলাম, ডা: আবুল কাশেম কবির ও ডা: গোলাম ফারুক কিছুই জানেন না। এর মধ্যে ২ জন ডাক্তার বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে তাদেরকে চরম ভাবে অপমান করেছেন ভারপ্রাপ্ত ডা: গিয়াস উদ্দিন। ফলে পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, গত ২০১১-১২ অর্থ বছরে যশোর মেডিকেল কলেজে ৬৫ জন ৪র্থ শ্রেণির আউট সোর্সিং কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হয়। যাদের মধ্যে ২৫ জন অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলো। এখন দীর্ঘ ৮ বছর চাকুরী করায় অভিজ্ঞ ওই স্টাফের বদলে নতুন কাউকে দিয়ে কাজ করালে কতটা কল্যাণকর হবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

যশোর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা: গিয়াস উদ্দিন আউট সোর্সিং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উষা এস সি লি: এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ হেসেনের কাছ থেকে প্রতি মাসে মোটা টাকা ‘ঘুষ’ পাওয়ায় কোন টেন্ডার ছাড়া গত ৮ বছর ধরে তাদেরকে দিয়ে চালাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে ২৫ জন আউট সোর্সিং অফিস সহায়ককে হঠাৎ চাকুরী থেকে অব্যাহতির কারন সম্পর্কে জানাতে গিয়ে বেরিয়ে পড়ে থলের বিড়াল। বিষয়টি হলো, গত ২০১১-১২ অর্থ বছরে নিয়োগ হওয়া ৬৫ জন ৪র্থ শ্রেণির আউট সোর্সিং কর্মচারীকে সরকার প্রদত্ব প্রতি মাসের ‘বেতন’ এর চেক দেবার সময় ঠিকাদার প্রতিজনের কাছ থেকে অগ্রিম ৫ হাজার টাকা নিয়ে তবেই চেক দিতেন। আদায় হতো সোয়া তিন লাখ টাকা। ওই টাকার একটি অংশ পেতো যশোর মেডিকেল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা: গিয়াস উদ্দিন, হিসাবরক্ষক জয়নাল আবেদিন, প্রধান অফিস সহকারী আব্দুস সবুর খান ও স্টোর কিপার আতিয়ার রহমান ।

এক পর্যায়ে অফিস সহায়ক পদে কর্মরতরা তাদের টাকা থেকে ওই টাকা দিবে না বলে জানিয়ে দেয়। এ সময় বাকি ৪৫ জনও তাদের সাথে একাত্বতা প্রকাশ করেন। তখন ৬৫ জন ৪র্থ শ্রেণির আউট সোর্সিং কর্মচারী তাদের টাকার ভাগ না দেবার জন্য মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। বাধ্য হয়ে ওই ৫ হাজার টাকা নেয়া বন্ধ হয়। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় এই ২৫ জন অফিস সহায়ক। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ২৫ জন অফিস সহায়ক আউট সোর্সিং কর্মচারীকে চাকুরি থেকে অব্যহতি দেবার হুমকি দেয়া হয়। সর্বোশেষ বুধবার সেটি কার্যকর করা হয়।

খোজ নিয়ে জানা গেছে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা-৩ শাখার স্মারক নং ১৭.১৫৩.০২৯.০৭.০০.০১.২০১৯ তাং ১০-৬-২০১৯ মোতাবেক বলা হয়েছে পরবর্তীতে আউট সোর্সিং অফিস সহায়ক নেয়া হবেনা। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য পরবর্তী আউট সোর্সিং নিয়োগ টেন্ডার না হওয়ার আগেই এই ২৫ জনকে অব্যহতি দেয়া হলো। আবার অবাহতি দেয়া আগে তাদের বেতনও দেয়া হয়নি। অব্যহতি দেয়ার এই প্রসেসটা মোটেও আইনসিদ্ধ নয় বলে দাবি করেছেন আউট সোর্সিং স্টাফ নিয়েগ ও তদারক কমিটির সদস্যসহ অনেকে।

সূত্রগুলো বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে হাসপাতাল ও সরকারী প্রতিষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রনালয়ের অর্থ বিভাগের ওই নির্দেশনা পেয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্নদের বাদ না দিয়ে বিকল্প পদ সৃষ্টি করে অভিজ্ঞ কর্মচারীদের বহাল রাখা হয়েছে।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com