সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২০, ১২:১১ অপরাহ্ন

করনীয়:
করোনা প্রতিরোধে সচেতন হই। ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুই। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হই।
গৃহবধূ ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি

গৃহবধূ ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি

 

স্টাফ রিপোর্টার: আলোচিত সেলিনা বেগম ধর্ষণ ও হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে কাঠ মিস্ত্রি বেল্লাল হোসেন। ঘটনার দিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সেলিনার সাথে শারীরিক সম্পর্কের পর বিয়ে না করায় কথা কাটাকাটির এক পর্যায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। রোববার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দিয়েছেন। আটক বেল্লাল হোসেন খুলনার ফুলতলা উপজেলার ধোপাখোলা গ্রামের মোহাম্মদ মোল্যার ছেলে। বর্তমানে তিনি অভয়নগরের শংকরপাশা গ্রামের বুলবুলের বাড়ির ভাড়াটিয়া।

বেল্লাল হোসেন বলেছেন, ছোট বেলা থেকে তিনি কাঠ মিস্ত্রির কাজ করেন। প্রথমে অভয়নগরের দেয়াপাড়া গ্রামে জরিনা নামে একজনকে বিয়ে করেন। ৪/৫ বছর পর পারিবারিক বিরোধে জরিনা তাকে তালাক দেয়। এরপর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে শরিফা খাতুন নামে আরেকজনকে বিয়ে করেন। সেখানে ১৬/১৭ বছর সংসার করার পরে শরিফা স্ট্রোক করে মারা যায়। সেই ঘরে দুইটি মেয়ে আছে। এরপর আবারও বিয়ে করার জন্য বেল্লাল হোসেন ঘটকের মাধ্যমে মেয়ে দেখছিলেন। এক ঘটকের মাধ্যমে তার সদর উপজেলার কেফায়েতনগর গ্রামের আনসার আলীর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী সেলিনা বেগমের পরিচয়। সেলিনার সাথে তার মাঝে মাঝে মোবাইলে কথা হতো। ঘটনার দিন ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বেল্লালকে তার বাড়িতে আসতে বলে সেলিনা। সন্ধ্যার পরে সেলিনার বাড়িতে এসে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তাদের দুইজনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপর বেল্লাল বাড়িতে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সেলিনাকে বিয়ে না করলে তাকে যেতে বাধা দেয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায় সেলিনাকে ধাক্কা দেয় বেল্লাল। সেলিনা ঘরের দরজার পাশে পরে ইটে মাথা লেগে কেটে যায়। এসময় সেলিনার গলায় শাড়ি পেচানো ছিল। বেল্লাল সেই শাড়ি টেনে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর সেলিনার মোবাইল নিয়ে বেল্লাল হোসেন পালিয়ে চলে যায়। পরদিন ১২ ডিসেম্বর দুপুরে লোক মারফত বেল্লাল শুনতে পায় সেলিনা মারা গেছে।

সেলিনার মোবাইলটি নিয়ে বেল্লাল তার ভাগ্নে আরিফুলের কাছে দেয়। আরিফুল ওই মোবাইল ব্যবহার কালে পুলিশের হাতে মোবাইলসহ আটক হয়। আরিফুলের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার রাতে বেল্লালকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

নিহত সেলিনার ছেলে সোহেল রানার দায়ের করা মামলার বিবরণে জানা গেছে, তিনি শ্বশুর বাড়ি বাগেরহাটের কাটাখালি বাইনতলায় বসবাস করতেন। ২০১৬ সালের ১২ পিসেম্বর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আত্মীয় স্বজনদের কাছে খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন। এরপর যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে তার মায়ের লাশের সনাক্ত করেন। তিনি মামলায় বলেছেন জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধে কোন অপরাধী চক্র তার মাকে গলায় শাড়ি দিয়ে শ্বাসরোধের পর তার মাখে খুন করে।

এব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইড পুলিশের পরিদর্শক জাকির হোসেন জানিয়েছেন, সেলিনাকে বিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্কের পর ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর রাতে শ্বাসরোধে হত্যা করে বেল্লাল। নিহতের সুরতহাল ও মেডিকেল রিপোর্টে তাকে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাতে বেল্লালকে আটকের পর আদালতে সোপর্দ করা হলে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।.

খবরটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com