সোমবার, ২০ জানুয়ারী ২০২০, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

যশোরে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে

যশোরে ডেঙ্গু মহামারি আকার ধারণ করেছে

ই.আর.ইমন:যশোরে ডেঙ্গু প্রকট আকার ধারণ করেছে। ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন ডাক্তাররা। প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন রোগীর চাপ। হাসপাতালের মেঝেতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয় কিট এনএস১ সংকট দেখা দিয়েছে।এতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে রোগীদের। সর্বশেষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে হলেন শাহজাহান আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যাক্তি মারা যান। তিনি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ভাঙ্গুড়া এলাকার বাসিন্দা (৭০)।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কয়েক শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এখন হাসপাতালে আরও কয়েক শতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। জেলায় ১১৫ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য রোগীর চাপও বাড়ছে। ফলে অতিরিক্ত রোগীর সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের বারান্দায় জায়গা হয়েছে অনেক রোগীর।এতে ভোগান্তি বেড়েছে সবার। সরকারি হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হয়েছে।কিন্তু এনএস১ কিট সংকটে পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাচ্ছে না। যশোর জেনারেল হাসপাতালের ল্যাব টেকনোলজিস্ট গোলাম মোস্তফা বলেন, আমাদের এখানে এনএস১ কিট সংকট রয়েছে। সিভিল সার্জন অফিস থেকে ৪০টি কিট দেয়া হয়েছিল।সেগুলো শেষ হয়ে গেছে। এদিকে সরকারি হাসপাতালের মতো বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিকেও বাড়ছে রোগীর ভিড়। কিটসের দাম তিন-চারগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার নির্ধারিত মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিড়ম্বনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। ইবনে সিনা হাসপাতাল ও ডায়াগনোস্টিক সেন্টার যশোরের ডেপুটি ম্যানেজার ও অ্যাডমিন ইনচার্জ মফিজুর রহমান তারেক বলেন,রোগীর চাপবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ডেঙ্গু পরীক্ষার উপকরণ কিট সংকট দেখা দিয়েছে।কিট আমদানিরকরা তিন-চারগুণ দাম বৃদ্ধি করেছেন। সরকারের উচিত তাদের নিয়ন্ত্রণ করা।তা না হলে উচ্চমূল্যে কিট কিনে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা কঠিন হবে।অনেক ক্লিনিক ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছে।আমাদেরও বাধ্য হতে হবে। যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (চলতি)ডা.আবুল কালাম আজাদ বলেন,স্বাস্থ্য অধিদফতরে কিটসের চাহিদা পাঠিয়েছিলাম। সেখানে সরবরাহ নেই।আমাদের স্টোর কিপার ফিরে এসেছে।তবে সিভিল সার্জন অফিস থেকে ৪০টি কিটস পেয়েছি।সেটি দিয়ে কাজ চলছে।

যশোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ইমদাদুল হক রাজু বলেন,ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিনটি মনিটরিং টিম গঠন,একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও মনিটরিং সেল খোলা হয়েছে। জেলায় এই পর্যন্ত কয়েক শতাধিক রোগী শনাক্ত করা হয়েছে

খবরটি শেয়ার করুন..




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com