রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০২:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত যশোর স্টেডিয়ামপাড়ায় পুলিশিং কার্যালয় উদ্ধোধন যশোরে ৬৭ জন করোনা শনাক্ত বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবাষির্কী উপলক্ষে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা ‘দুর্গন্ধ হওয়ার ৭ কারণ প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হওয়া স্বত্ত্বেও আমার মায়ের কোনো অহমিকা ছিল না বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে নবাবগঞ্জে সেলাই মেশিন বিতরণ ইবি তরুণ কলাম লেখক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা যশোরে চিকিৎসার নামে ভন্ড ফকিরের বিরুদ্ধে নারীর শ্লীলতাহানী ঘটানোর অভিযোগ যশোরে ছেলে ও পুত্রবধুর বিরুদ্ধে নগদ টাকা স্বর্ণের গহনা চুরির অভিযোগে মামলা
বাল্যবিবাহ কারণ ও প্রতিকার

বাল্যবিবাহ কারণ ও প্রতিকার

দিদারুল ইসলাম রাসেল,ইবি প্রতিনিধি।
সবুজে ঘেরা আমাদের এই বাংলাদেশ যখন সকল সমুদ্রের স্রোতের মত সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে চলেছে,তখন কিছু সামাজিক সমস্যাও তাকে মোকাবেলা করতে হচ্ছে।আর এই সামাজিক সমস্যার কারণে মানুষ মানুষত্ব ভুলে গিয়ে পশুত্ব ধারণ করে বসেছে।আর সামাজিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাল্যবিবাহ।বাংলাদেশে যথাযথ আইন থাকার পরেও থামছে না এ সামাজিক ব্যাধি।সাম্প্রতিক কালে বাল্যবিবাহ আইন,২০১৮ ও প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাল্যবিবাহ হল অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির আনুষ্ঠানিক অথবা অনানুষ্ঠানিক বিবাহ। আইনত বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর, বিশেষত মেয়েদের ক্ষেত্রে। কিন্তু বিশেষ ক্ষেত্রে অভিবাবকের অনুমতি সাপেক্ষে এই বয়সের আগেও বিয়ের অনুমতি দেয়া হয়। যদিও আইন অনুযায়ী বিয়ের বয়স ১৮ বৎসর, তারপরও কিছু কিছু দেশের নিজস্ব প্রথাকেই আইনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। বাল্যবিবাহে মেয়ে এবং ছেলে উভয়ের উপরই প্রভাব পড়ে। তবে মেয়েরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, বিশেষত নিম্ন আর্থসামাজিক পরিস্থিতির কারণে। বেশিরভাগ বাল্যবিবাহে দুজনের মধ্যে শুধু একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়ে থাকে।
বিশেষত মেয়েরাই বাল্যবিবাহের শিকার বেশি হয়।
বাল্যবিবাহের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানত – দরিদ্রতা, যৌতুক, সামাজিক প্রথা, বাল্যবিবাহ সমর্থনকারী আইন, ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ, অঞ্চলভিত্তিক রীতি, অবিবাহিত থাকার শঙ্কা, নিরক্ষরতা এবং মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা।
বিভিন্ন কারণেই বাল্যবিবাহের প্রচলন অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- দারিদ্রতা, নিরাপত্তাহীনতা, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণসমূহ। এখনও উন্নয়নশীল দেশসমূহ, যেমন, আফ্রিকার কিছু অংশ,দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, পশ্চিম এশিয়া,লাতিন আমেরিকা এবং ওশেনিয়া প্রভ্রৃতি দেশে বাল্যবিবাহ বহুল প্রচলিত।
নাইজার, চাদ, মালি, ভারত, বাংলাদেশ,গিনিও মধ্য আফ্রিকার কিছু দেশে বাল্যবিবাহের হারসবচাইতে বেশি, যা প্রায় ৬০% এর উপর। ২০০৩-২০০৯ জরিপ অনুযায়ী, নাইজার, চাদ,বাংলাদেশ,মালি এবং ইথিওপিয়াতে ১৫ বছরের নিচে শিশুদের বাল্যবিবাহের হার ২০% এর উপর।
ইতিহাসের দিকে তাকালে লক্ষ্য করা যায়,১৫৩৩ সালে স্যাক্সনি রাজ্যের রাজকন্যা এমিলিয়া মাত্র ১৬ বছর বয়সে প্রাচীন রোমান সাম্রাজ্যের রাজপুত্র ৪৮ বছর বয়সী জর্জ -কে বিয়ে করেন।
ঐতিহাসিকভাবে, বিশ্বব্যাপী বাল্যবিবাহ একটি প্রচলিত প্রথা। তবে এই প্রথা প্রশ্নবিদ্ধ হয় বিংশ শতাব্দীর দিকে যখন বিভিন্ন দেশে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স বৃদ্ধি পায়।
প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় সমাজে মেয়েদের সাধারণত বয়ঃসন্ধির আগেই বিয়ে দেয়া হত। প্রাচীন গ্রিসে কম বয়সে বিয়ে এবং মাতৃত্ব উৎসাহিত করা হত। এমনকি ছেলেদের ও তাদের কৈশোরেই বিয়ের জন্য উৎসাহ দেয়া হত। বাল্যবিবাহ ও কৈশোরে গর্ভধারণ খুবই সাধারণ ঘটনা ছিল।
প্রাচীন রোমে মেয়েদের বিয়ের বয়স ছিল ১২ বছরের উপর এবং ছেলেদের ১৪ বছরের উপর। মধ্যযুগে ইংলিশ আইন অনুসারে ১৬ বছরের পূর্বে বিয়ে সর্বজন স্বীকৃত ছিল।
ধার্মীয় দিক বিবেচনা করলে দেখা যায়,বেশিরভাগ ধর্মে বিবাহযোগ্য বয়সকেই সমর্থন করা হয়। খ্রিস্ট ধর্মে বয়ঃসন্ধির আগে কোনো মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আছে। হিন্দু বৈদিক লিপিতে মেয়েদের বিয়ে বয়ঃসন্ধি শুরুর ৩ বছর পর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইহুদি বিশেষজ্ঞগণ বয়ঃসন্ধির পূর্বে বিয়ে নিরুৎসাহিত করেছেন, কিন্তু একই সাথে, ক্ষেত্রবিশেষে, ৩ থেকে ১২ বছরের শিশু কন্যাকে তার পিতা বিয়ে দিতে পারেন।
ক্যাথলিক চার্চ অনুসারে, সর্বনিম্ন বিয়ের বয়স ছেলেদের জন্য ১৪ ও মেয়েদের জন্য ১২ ধরা হয়। পরে ১৯৮৩ সালে যাজকীয় অনুশাসনে ১৯১৭ সালের সংশোধিত বয়স ছেলেদের ক্ষেত্রে ১৬ ও মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৪ বছর বজায় থাকে। কিছু ইসলামি বিয়ের প্রথানুযায়ী ১০ বছরের কম বয়সী মেয়েকে বিয়ে দেয়ার প্রচলন আছে। সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিম -এর বর্ণণা অনুসারে, শরীয়াহ আইনের ভিত্তি হল মহানবী (সাঃ) -এর জীবনাদর্শ। তিনি তাঁর তৃতীয় স্ত্রী আয়শা (রাঃ) -কে ৬ বছর বয়সে বিয়ে করেন এবং ৯ বছর বয়স থেকে বৈবাহিক জীবন শুরু করেন। কিছু মূলধারার ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, সময়ানুক্রমিক বয়স নয়, বরং অভিভাবকরা যখন মেয়েকে শারীরিক ও মানসিকভাবে মেয়েকে বিবাহযোগ্য মনে করবে মুসলিম ধর্মীয়আইনানুযায়ী সেইটাই বিয়ের উপযুক্ত বয়স। তবে তা নির্ধারণ করা কঠিন। এবং শরীয়াহ আইনের ভিত্তি অনুযায়ী এবং অধিকাংশ মুসলিম চিন্তাবিদের মতে ১৩ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে দেয়া গ্রহণযোগ্য।
এ সামাজিক ব্যাধি থেকে থেকে মুক্তি পেতে হলে সবচেয়ে আগে দরকার জনসচেতনতা।কারণ সমাজের একজন মানুষ যখন নিজে সচেনত হবে তখন এ মারাত্বক ব্যাধি দূর হতে শুরু করবে।তার পাশাপাশি আইনের কঠোর প্রয়োগও দরকার।আইন থাকা সত্ত্বেও যখন মানুষ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে,আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয না,তখন আইনের যথাযথ প্রয়োগ ছাড়া উপায় থাকে না।
সর্বোপরি,বাংলাদেশকে সোনার দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সামাজিক ব্যাধি চিরতরে দূর করে সোনার মানুষ হতে হবে।সচেতন নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে,পাশাপাশি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে যোগ্য নাগরিকের পরিচয় দিতে হবে।
জয় বাংলা নিউজ

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com