রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২০, ০৩:১৯ অপরাহ্ন

শিরোনাম :
যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতির ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী পালিত যশোর স্টেডিয়ামপাড়ায় পুলিশিং কার্যালয় উদ্ধোধন যশোরে ৬৭ জন করোনা শনাক্ত বঙ্গমাতার ৯০তম জন্মবাষির্কী উপলক্ষে যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের উদ্যোগে দোয়া ও আলোচনা ‘দুর্গন্ধ হওয়ার ৭ কারণ প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হওয়া স্বত্ত্বেও আমার মায়ের কোনো অহমিকা ছিল না বঙ্গমাতার জন্মদিন উপলক্ষে নবাবগঞ্জে সেলাই মেশিন বিতরণ ইবি তরুণ কলাম লেখক ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা যশোরে চিকিৎসার নামে ভন্ড ফকিরের বিরুদ্ধে নারীর শ্লীলতাহানী ঘটানোর অভিযোগ যশোরে ছেলে ও পুত্রবধুর বিরুদ্ধে নগদ টাকা স্বর্ণের গহনা চুরির অভিযোগে মামলা
বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা

বিলুপ্তির পথে বাবুই পাখির বাসা

“বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই,
কুড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই।

আমি থাকি মহা সুখের অট্টালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে”। কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী ছড়াটির নায়ক আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি আজ বিলুপ্তির হয়ে যাচ্ছে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে আগের মত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা আজ
আর তেমন চোঁখে পড়ে না। এ উপজেলা

পাহাড়িঘেষা এলাকার আনাচে- কানাচে তালগাছের পাতায় পাতায় দেখা যেত বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম
বাংলার সেই চিরচেনা ঐতিহ্যবাহী নিপুণ বাসা তৈরির কারিগর বাবুই পাখি ও তার বাসা। খড়ের ফানি, ধানের পাতা, তালের কচিপাতা, ঝাউ ও কাঁশবনের লতাপাতা দিয়ে উচ্চু তাল গাছে চমৎকার আকৃতির বাসা তৈরি করতো বাবুই পাখিরা। বাবুই পাখির বাসা যেমন দৃষ্টিনন্দন তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়ে বাতাসে টিকে থাকে তাদের বাসা।

বাবুই পাখির শক্ত বুননের এ বাসা টেনেও ছেড়া কঠিন। বাবুই পাখি একাধারে শিল্পী, স্থপতি ও সামাজিক বন্ধনের প্রতিচ্ছবি। এরা এক বাসা থেকে আর এক বাসায় যায় পছন্দের সঙ্গি খোঁজতে। সঙ্গি পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুই পাখিকে সাথী বানানোর জন্য কত কিছুই না করে। পুরুষ বাবুই নিজের প্রতি আকর্ষণ করার জন্য খাল-বিল ও ডোবায় গোসল সেরে ফুর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে। এর পর উচু তাল গাছ, নারিকেল গাছ বা সুপারি গাছের ডালে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। বাসা তৈরির অর্ধেক কাজ হলে কাংখিত স্ত্রী বাবুইকে ডেকে দেখায়।

বাসা পছন্দ হলেই কেবল পুরো কাজ শেষ করে। বাসা পছন্দ না হলে অর্ধেক কাজ করেই নতুন করে আরেকটি বাসা তৈরির কাজ শুরু করে। অর্ধেক বাসা তৈরি করতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬দিন। স্ত্রী বাবুই পাখির বাসা পছন্দ হলে বাকিটা শেষ করতে সময় লাগে ৪ দিন। কেন না তখন পুরুষ বাবুই মহা আনন্দে বিরামহীন ভাবে কাজ করে। স্ত্রী বাবুই পাখির প্রেরণা পেয়ে পুরুষ বাবুই খুবই শিল্পসম্মত নিপুণ ভাবে বাসা তৈরি করে। স্ত্রী বাবুই ডিম দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরুষ বাবুই খোজতে থাকে আরেক সঙ্গিকে। পুরুষ বাবুই এক মৌসুমে ৬টি পর্যন্ত বাসা তৈরি করতে পারে।

অর্থাৎ এরা ঘর সংসার করতে পারে ৬ সঙ্গির সঙ্গে। তাতে স্ত্রী বাবুয়ের না নেই। প্রজন্ম প্রক্রিয়ায় স্ত্রী বাবুই ডিমে তা দেওয়ার ২ সপ্তাহের মধ্যেই বাচ্চা ফুটে। ৩ সপ্তাহ পর বাবুই বাচ্চা বাসা ছেড়ে উড়ে যায়। বাবুই পাখির প্রজন্ম সময় হলো ধান ঘরে উঠার মৌসুমে। স্ত্রী বাবুই দুধ ধান সংগ্রহ করে এনে বাচ্চাদের খাওয়ায়। বাবুই পাখি তাল গাছে বাসা বাধে বেশী। এদিকে যেমন হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি, অন্যদিকে বিলুপ্ত হচ্ছে বাবুই পাখির দৃষ্টি নন্দন বাসা। অবাধে শিকারও হচ্ছে এসব বাবুই পাখিরা।

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com