বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ০৮:৫৩ অপরাহ্ন

করনীয়:
করোনা প্রতিরোধে সচেতন হই। ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুই। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হই।
ঝুঁকিতে ৭০ লক্ষ ডায়াবেটিস রোগী

ঝুঁকিতে ৭০ লক্ষ ডায়াবেটিস রোগী

জয় ডেস্ক :  করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণকারী অধিকাংশ মানুষই দীর্ঘমেয়াদী রোগ-ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগসহ ফুসফুসের অসুখ ইত্যাদি সমস্যায় ভুগছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতেও, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ এর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি। ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিস ফাউন্ডেশনের হিসেব অনুযায়ী বাংলাদেশে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লক্ষ। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যাক মানুষ।

যা বলছে বিশেষজ্ঞরা: ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. ইউসুফ বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, রোগ হলে তার সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে একই সঙ্গে বসবাস করা অন্যান্য মানুষের তুলনায় ডায়াবেটিসের রোগীরা করেই এ ভাইরাসে আক্রান্ত হবেন। যাদের বয়স ৬৫ বছরের বেশি তারা করোনাভাইরাসের সহজ শিকার।
তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রোগীদের ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণের মাত্রা সঠিকভাবে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বোঝাতে সহায়তা করতে পারে। অর্থাৎ যার ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ যত খারাপ তার রোগে ভোগার আশঙ্কা তত বেশি। বাংলাদেশের প্রায় ৮০% ডায়াবেটিস রোগীর রক্তের গ্লুকোজ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি। ফলে তাদের সবাই ভাইরাস সংক্রমণের বাড়তি ঝুঁকিতে রয়েছে। আবার যারা অনেক বছর ধরে ডায়াবেটিস নিয়ে বেঁচে আছেন, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কম। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় আছেন যে সব ডায়াবেটিস রোগীর কিডনির কর্মক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে, একই সঙ্গে হৃদযন্ত্রও যথেষ্ট রক্ত পরিসঞ্চালনে ব্যর্থ এবং রক্তের গ্লুকোজ বেশি।

এ বিষয়ে ডা. মোছা. হোসনে আরা নার্গিস বলেন, ডায়াবেটিস বশে না থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর বিরূপ প্রভাব পড়ে। ফলে যে কোনো সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায়। বাড়ে কোভিডের আশঙ্কাও। ডায়াবেটিক কিটো অ্যাসিডোসিস বা ‘ডিকেএ’ নামের সমস্যা হলে কোভিডের দরুণ যে সব জটিল পরিস্থিতি হচ্ছে তা সামলানো খুব কঠিন হয়ে যায়। তিনি বলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে হাটা ও ব্যয়মের বিকল্প নেই। এজন্য সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে হাটতে হবে অথবা বাসার মধ্যেই উঠবস করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন শরিরে ঘাম ঝরে। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। এছাড়া প্রয়োজনীয় ওষুধ চালিয়ে যেতে হবে। কোন ধরণের সমস্য হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, লকডাউনে সবা্ই আবদ্ধ অবস্থায় থাকার কারণে বিভিন্ন ধরণের খাবার তৈরি করছে। এতে ক্ষতির আসঙ্কা থাকে বেশি।
মানতে হবে আরো যেসব বিষয়: ধূমপান করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে। এজন্য ধুমপান এড়িয়ে চলতে হবে। অনেক ডায়াবেটিস রোগীরই রক্তচাপ বেশি থাকে। আবার ভুয়া তথ্যের কারণে অনেকে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিচ্ছেন। এতে মারাত্মক বিপদ হতে পারে। সাধারণ জ্বর-সর্দি-কাশি হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না। কারণ নানা ওষুধের নানান বিরূপ প্রতিক্রিয়া আছে ডায়াবেটিসের ওপর। ডায়াবেটিস বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ভাত-রুটি কম খেয়ে সবুজ শাক-সবজি খান। হাঁটাহাঁটি ও ব্যায়াম করুন। বয়স্ক লোকজনের মধ্যে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। বয়স্ক কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করার কারণ আছে, কারণ তাদের অনেকেরই আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

জয় বাংলা নিউজ/সস

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com