বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন

যে দেশে নারীরা ডিভোর্সের পর উৎসব করে

যে দেশে নারীরা ডিভোর্সের পর উৎসব করে

জয় ডেস্ক : বিচ্ছেদ মানেই অসহনীয় এক পৃথিবী, বিচ্ছেদ মানেই ‘জীবনের শেষ’ এ রকম মনে করে না মৌরিতানিয়ার নারীরা। বিচ্ছেদের পর ওই নারীর সৌজন্যে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তার পরিবার। স্বামীর ‘যন্ত্রণা’ পেরিয়ে মেয়েরা নিজের ঘরে আরেকবার ফিরে আসার সুযোগ পাওয়ায় দেশটিতে বিচ্ছেদ উদ্‌যাপন করা হয়।

পরিবারের সব সদস্যরাই বিষয়টি স্বাভাবিক চোখেই দেখেন। তারা মনে করেন, ভালোর জন্যই মেয়ে আবার পরিবারে ফিরে এসেছে। এই ফিরে আসাকে তারা ‘কলঙ্কমুক্ত’ জীবনের সুযোগ হিসেবেও দেখেন। তাই একটি ব্যর্থ সম্পর্কের ইতি ঘটায় তারা আনন্দে ভেসে যায়। পাড়া কিংবা গ্রামের অন্যরা সেই আনন্দে শামিল হন। সব আয়োজন শেষ হলে বিচ্ছেদী নারী অবিবাহিতদের কাতারে চলে যান।

ডিভোর্সের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে সন্তানকে নিয়ে মায়ের বাড়িতে ফেরেন নারীরা। ফেরার দিন মা এবং বোনেরা জাগুরতার (আনন্দের কান্নাকাটি) শব্দে মেয়েকে স্বাগত জানান। এ সময়ে চারদিক ভেসে যায় সুরের মূর্ছনায়।

পরিবারে আয়োজন শেষ হলে তার বান্ধবীরা গানের আসর বসায়। সেখানে নতুন কবিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়, যারা নতুন জীবনে ফেরা নারীর সৌন্দর্যের প্রশংসা করে আবৃত্তি করেন। কোনো কোনো অঞ্চলে নারীর বিচ্ছেদ উদ্‌যাপন করতে অবিবাহিত কোনো ছেলেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

এর উদ্দেশ্য ডিভোর্স দেওয়া স্বামীর হিংসা জাগানো। তিনি কীভাবে এমন ‘সুন্দর’ একজন মেয়েকে ডিভোর্স দিতে পারলেন, সে কথা এই পার্টির মাধ্যমে তাকে জানানো হয়।

মৌরিতানিয়ার পুরুষেরা ডিভোর্সি নারীকে অবিবাহিত নারীদের মতোই মনে করে। এসব নারীকে অনেকে কবিতায় তুলে ধরেন। সন্ধ্যার পর আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা কবিতার আসর বসান। সেখানে তিনবার বিশেষ চা সরবরাহ করা হয়। প্রথমবারের চা একটু তেতো স্বাদের। পরের দুইবার মিষ্টি। এই আসরে তরুণ লেখকেরা সবাইকে কবিতা পড়ে শোনান।

মৌরিতানিয়ার মানুষের জীবনে কবিতার ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। অল্প বয়স থেকে শিশুদের কবিতা লেখার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মরফোলজি, সিনট্যাক্স, ইনফ্লেকশন-সহ সাহিত্যের খুঁটিনাটি সব শেখানো হয়। শেখানো হয় বক্তৃতার কৌশলও।

বিচ্ছেদের পর নারীরা ভালো থাকলেও পুরুষদের হয় বিপত্তি। ডিভোর্সি পুরুষকে নারীরা আবার বিয়ে করতে চায় না। অন্যদিকে ডিভোর্সি নারীকে ‘অভিজ্ঞ’ মনে করে অবিবাহিত পুরুষরা। তাদের ধারণা, যার ডিভোর্স হয়েছে সে সংসার সম্পর্কে ভালো বোঝে। সব সামাল দেওয়ার ক্ষমতা তার বেশি।

মৌরিতানিয়ার ২০১৮ সালের এক সরকারি রিপোর্টে বলা হয়, এক তৃতীয়াংশ বিয়ে ডিভোর্সের পরিণতি পেয়েছে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ নারী আবার বিয়ে করেছেন। আর ২৫ শতাংশ বিয়ে করেনি। ৭ শতাংশ নারী তিন কিংবা তার বেশি বার বিয়ে করেছেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

জয় বাংলা নিউজ/সস

খবরটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved  2019 Joibanglanews.com এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা নিষেধ।
Design & Developed BY ThemesBazar.Com